Saturday, May 9, 2026

শেড অ্যাকুরিয়াম

মে ৮, ২০২২


শেড অ্যাকুরিয়াম গেলাম। সকালে উঠলাম দেরিতে। দায়ীন ভাইয়ের সাথে কথা বলেছিলাম গতকাল। তিনি ছিলেন শেড এর কাছাকাছি। তার আরেক বন্ধুর সাথে দেখা করার জন্য। তার বন্ধুর নাম তানভীর আহমেদ। তিনি নিউইয়র্কে থাকেন। রেজিডেন্ট হলে টিকিটের দাম কম হয়। দায়ীন ভাইয়ের মাধ্যমে সবার জন্য টিকিট কাটা হলো। সবাই নিজ নিজ অংশ শেয়ার করলেন..

প্রায় সব রিজিওনের মাছ রাখা আছে অ্যাকুরিয়ামে। আমাদের শিং কৈ খলিশা খুঁজে পাই নাই।

তিমি দেখলাম এক প্রজাতির। দুই প্রজাতির ছিল একুরিয়ামে। আরেকটার দেখা ভাল মত মিলল না। ডলফিনের নাচানাচি দেখলাম। হাঙরের চলাচল। অল্প কিছু প্রজাতি বাদে বেশিরভাগ মাছ শুধু ছুটে বেড়ায়। যেসব চুপচাপ থাকে সেসব অনেক চুপচাপ। শোল মাছ যেমন। তিমিরা ত জিরায় না। ডলফিনরাও খুবই অস্থির। কেবলই ছুটতে থাকে। কোরাল (প্রবাল) দের সম্পর্কে জানলাম নতুন নতুন কথা।

কোরাল দেখতে গিয়ে একটা ছেলের সাথে কথা হলো। নাম উইলিয়ামস। সে এসছে মিসিসিপি থেকে। ছেলেটিকে বুঝালাম কোরাল যে জীবিত, মৃত পাথর নয় তারা। সে অবাক হলো বেশ। যখন জানল আমি বাংলাদেশ থেকে এসছি সে বেশ খুব খুশি হলো; চোখমুখ ঝিলিক দিয়ে উঠলো তার। বাংলাদেশকে সে চিনে। তার গার্লফ্রেন্ডকে ডাকলো কাছে। সে সাথে ছিলো এতক্ষণ আমি বুঝতে পারিনি। গার্লফ্রেন্ডতো খুবই খুশি। তার মায়ের একজন কলিগ হচ্ছেন বাংলাদেশের। সার্জন। নারী। তখন মনে মনে আর এখন এই লিখিত অক্ষরে ধন্যবাদ জানিয়ে রাখছি সেই নারীর প্রতি। উইলিয়ামসের মেয়ে বন্ধুটি জানাল সে ড্রাংক। এবং যে বাংলাদেশ সম্পর্কে সে জানে তা নাকি অন্যরকম। অনেক মানুষ আছে - আমাদের দেশে - জানালাম আমি। 

সে বলল সে খুব ইমোশনাল। আমাকে জিজ্ঞেস করলো আমি ইমোশনাল কিনা। বললাম সবাই কমবেশি ইমোশনাল। সে একমত হলো না। উইলিয়ামসকে দেখিয়ে বলল ও একেবারেই ইমোশনাল না। আমি বললাম - ইমোশন লুকায়ে রাখছে বুকের ভিতর, খোচা দিলেই বের হবে।

উইলিয়ামস জানতে চাইল আমি আমেরিকায় থাকব নাকি? আমি বললাম জানিনা। শুধু এখন জানি সামারটা নিউইয়র্ক শহরে কাটাবো। সে বলল - আমেরিকায় অনেক সুন্দর জিনিস আছে তা দেখতে। যেমন একুরিয়াম দেখলাম এমন আরো অনেক দেখার জিনিস। আর আমেরিকান মেয়েদেরকেও দেখা উচিত। আমেরিকান নারীদের দেখার কথা বলায় তার গার্লফ্রেন্ড আহত হলো। সে একটা ক্রদ্ধ দৃষ্টি দিয়ে উইলিয়ামসের কাছ থেকে কমপক্ষে দশহাত দূরে সরে গেল। কথা এবং উপকথনে জানা গেলো মেয়েটি কবিতা পছন্দ করে। আর মদ। মনে হলো সহজ সরল সুখী মানুষ। আর কি দরকার একজন মানুষের আনন্দময় জীবন কাটানোর জন্য? জীবনের এই চমৎকার প্রশ্ন কোড়ালদের পাশে রেখে সারা আকুয়ারিয়াম ঘুরলাম, 

হাটতে হাটতে ফিরলাম অনেকটা পথ। মিশিগান লেকের পাশ দিয়ে এত সুন্দর হাটার রাস্তা। প্রায় উনিশ হাজার কদম হাটা হয়েছে আজ। এগার মাইল। এত হাঁটা অনেকদিন হাঁটিনি। ছোটবেলায় একবার হেটে হেটে নানুবাড়ি গিয়েছিলাম। পৃথিবীতে আমার যাওয়ার মত অই একটাই গন্তব্য ছিল। সেখানে আমার কোন ভাবনা চিন্তার ব্যাপার ছিল না। 

বিচের মত কয়েকটা জায়গা আছে। তেমনি এক জায়গায় দেখলাম বিয়ারের খালি বোতল পাশে ফেলে বালিতে শুয়ে আছে একলোক। একটু স্বাস্থ্য ভাল টাইপের লোক। মনের সুখে নাকি দুঃখে বালিতে ঘুমিয়ে পড়লো সে তা আমি কখনো জানতে পারবো না। আমি কি জানতে চাই? তার গল্পটা কি শুনতে চাই আমি? চাই না। 

আরেকটা ঘটনা ঘটলো বেশ মজার। চলতি ট্রাইসাইকেল থেকে উড়ন্ত চুমু আমার দিকে ছুড়ে দিয়ে এক সুন্দরী দুনিয়া কাঁপায়ে হাসতে হাসতে উড়ে গেল। দক্ষিণ আমেরিকান কোন নারী হবে হয়তো। বয়স বোঝার উপায় নেই। আর কথা না বলায় বুঝতেও পারিনি কোন এলাকার। তাই চেহারা দেখেই আন্দাজ আমার। তার দুনিয়া উল্টানো হাসির বিনিময়ে আমি একটু হাসলাম। চুমুটা আমি ধরে রেখেছি অবশ্য। এই লেখায়। আর ছবি তুলে রেখেছি মনে।

এরকম কত কত ছবি যে তুলে রাখলাম। কোন সুন্দর দৃশ্য দেখার পর মনে মনে আকার চেষ্টা করে। জমা থাকলো না তারা। মনে থাকার জন্য সেসব দৃশ্য আবার রিভিউ করতে হয়। সেই রিভিউ করার অবসর নাই। অলস মাছির মতো স্মৃতির ওপর ভন ভন করে ঘোরার সময় নেই। সময় কেবল জয়নুলের আঁকা সংগ্রাম।  
-

Creative Commons License
This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial 4.0 International License.

শেড অ্যাকুরিয়াম

মে ৮, ২০২২ শেড অ্যাকুরিয়াম গেলাম। সকালে উঠলাম দেরিতে। দায়ীন ভাইয়ের সাথে কথা বলেছিলাম গতকাল। তিনি ছিলেন শেড এর কাছাকাছি। তার আরেক বন্ধুর সাথে...