Thursday, July 26, 2018
শোক
Tuesday, July 24, 2018
ইঁদুর বিষয়ক অভিজ্ঞতা
উক্ত আইন অনুসারে ইঁদুরটির মৃত্যুদণ্ড নির্ধারন করা হয়েছিল।
কিন্তু মৃত্যুদণ্ড বাস্তবায়নের পদ্ধতি কি হবে তথা কেমনে মারা হবে
এই প্রজাতি বিরোধী ভয়ংকর অপরাধীকে তা নিয়ে বিভিন্ন অপশন খোলা ছিল। যথা: ১. মেটাল (ধাতব) ফাঁদ পেতে হত্যা। ২. খাদ্যে বিষ প্রয়োগে হত্যা। ৩. গ্লু বা আঠার ফাঁদ পেতে ধরা এবং পরবর্তীতে পিটিয়ে/ পানিতে ডুবিয়ে / না খাইয়ে হত্যা। ৪. সরাসরি পানির ফাঁদ ফেলেও হত্যা করার নজির আছে। (এই চারটি দণ্ড থেকে অনুমান হতে পারে ইঁদুরের শাস্তি সবসময় ম্যান্ডাটরি ডেথ পেনাল্টি। অবশ্য বাংলাদেশের একটি আইনে আরো বেশি সংখ্যক বাধ্যতামূলক মৃত্যুদণ্ডের বর্ণনা আছে। কিন্তু আরো অপশন আছে।) ৫. কোথাও কোথাও মানব জাতি সরাসরি এই মরণকাণ্ডে অংশগ্রহণ না করে পোষা মাস্তান লেলিয়ে দেয়। গৃহপালিত কিন্তু বাঘগোত্রীয় আধাবিশ্বস্ত বিড়ালেরা এই দায়িত্ব পালন করে। এই পোষা মাস্তান বিড়ালেরা সব সময় ইঁদুরকে খুন করে না, কখনো শুধু দৌড়ানি দেয় আর ভয় দেখায়। (গতসপ্তাহে দুয়েকজন সাংবাদিক বন্ধুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সম্মান রক্ষা কমিটির কয়েকজন হুলো যেমনটা করেছিলেন।)
যাহোক ফেসবুকে সর্বোচ্চ ইঁদুর বিড়াল বিষয়ক আলোচনা মানায়। দেবতা নার্সিসাসের আশীর্বাদআক্রান্ত আর উন্নয়ন এবং খেলাধুলা নামক আপিম আক্রান্ত রাষ্ট্রীয় সমাজে (ছে! গাছ থেকে নামার পর এখনও গায়ের গেছোঁ গন্ধ যায় নাই বোধ হয়, তার আবার রাষ্ট্র!) আর বেহতর কি কি থাকতে পারে?
মানুষেরা ইদানিং সিকিউরিটি নিয়ে বিস্তর কথা বার্তা বলে। এমন কথাবার্তার এক মগজ নাড়ানো উত্তর দিয়েছেন নোয়াম চমস্কি। (ইংরাজি ভাষার শুদ্ধাচার আক্রান্তগণ বেস্তর ‘নোম’ লিখেন। তৃতীয় বঙ্গজ সালাফি আলোর ইশকুল।) তো চমস্কি সিকিউরিটির প্রশ্নে বেশি আগ্রহী যেই প্রশ্নে তা হইল - কার সিকিউরিটি? মহান মার্কিন রাষ্ট্র যখন সিকিউরিটির ধুয়ো তোলেন তা আসল প্রশ্নকে ধোয়াচ্ছন্ন করে। সেই আসল প্রশ্নের উত্তর আপনারা জাইন্যা লইয়েন।
আমি অন্য কথা কই। সিকিউরিটি বিষয়টা ‘হোম’ বা ঘরের আরেক নাম। আপনার যখন ফিলিং হোম হয় - তখন তারে নিরাপদ বলা যায়। তো বুইজ্জা লইয়েন আপনার কখন কখন ফিলিং হোম হয়? এখনকার সময়ে ভায়োলেন্সের একচ্ছত্র অধিকারী রাষ্ট্র ভায়োলেন্স আপনার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা শুরু করলে আপনার আর ঘর ঘর লাগে না। তখন কারাগার কারাগার লাগে। মহামতি রাষ্ট্র বাদে মূলত মানুষরেই আপনার সবচে বড় সিকিউরিটি থ্রেট মনে হইতে পারে। ধরেন জাপানের একজন মৌচাষী ভাল্লুকের ফাঁদ পেতে রাখে মৌচাক আর মধুর হেফাজতের জন্য। আর ঢাকার শহর সিসিক্যামেরা আক্রান্ত হয়ে যায় মানুষের ভয়ে। রিকশায় ব্যাগ শক্ত কইরা ধইরা রাখে কিংবা হুড তুইলা রাখে প্রাইভেটকার থেকে বের হওয়া আগ্রহী মানুষের হাত দেখার ভয়ে। সিএনজির লোহার খাঁচার ভিতর থাকে সেই আশরাফুল মখলুকাতদের ভয়ে। (এসবের ভিতরে আরো গল্প আছে - সেই গল্প জানলে হয়তো অতো ভয় পাবেন না, স্বজাতির প্রতি অন্তত মায়ানমারের চাইতে বেশি দয়ালু হইবেন।)
আসল কথায় যাই, মানুষের এই ঘরে সে একেবারে নিরুপদ্রব থাকতে চায়। হাত ছড়ায়ে দিয়ে নাক ডাইকা ঘুমাইতে চায়। মানে রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে প্রজাপতি পর্যন্ত সবাই এই ন্যাচারাল রেস্ট ও নেস্ট চায়। মানুষের এই রেস্টিং এবং নেস্টিং তথা বিশ্রাম ও বাসার ভিতরে প্রাইভেসি আর বাইরে সিকিউরিটি জন্মায়। আধুনিক টেকনোলজি তার ঘর বাহির এক করে ফেলছে। আবার রাষ্ট্রের সাথে সে ফিঙ্গার প্রিন্ট এবং ছবি দিয়া এবং শ্রম ঘামের অংশ দিয়া এক মনিব দাস সম্পর্ক পাতাইছে। অন্তত চোখের সামনে সর্বশক্তিমান দেখার সাধ তার কিছু মিটে তাতে।
অন্য প্রাণীরা কিন্তু মানুষের প্রাইভেসি আর সিকিউরিটিরে তেমন পাত্তা দেয় না। ডরায় মাঝে মাঝে। এমন মারাত্মক প্রাণী দ্বিতীয়টা আর নাই বইলা। মশা মাছি ইঁদুর তেলাপোকা ছারপোকা ইত্যাদি মানুষের হোম ফিলিংয়ে ট্রেসপাস চালায়। মানুষেরও আগে কিংবা মানুষের পাশাপাশি অন্য প্রাণী এবং প্রাকৃতিক প্রভাব থেকে সিকিউরিটি মানুষের ঘর তৈরির মনের খুটা। বাঘ ভাল্লুক হাতি সিঙ্গি এখন আর সহজে হামলা করতে পারে না। রাষ্ট্র টেরিটরির উপর ব্যাপক দখল এনে দেয়ার কারনে। কিন্তু ছোট ছোটরা যেমন ইঁদুরটা এখনও সিকিউরিটি ভায়োলেট করে।
আশরাফুল মাখলুকাতের সিকিউরিটি লংঘন এবং শান্তি নষ্ট করার কারনে ইঁদুরটার মৃত্যুদণ্ড হইল। কিন্তু প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে অন্য এক পদ্ধতিতে তা কার্যকর হইলো। ঘরের দরজা খোলার শব্দে সে দরজার নিচ দিয়ে বের হলো। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকায় আর ঢুকতে পারল না। দু একবার চেষ্টা করল। আবার চার তলা থেকে ঝাপ দেয়ার কোন ট্রেনিং তার ছিল না। কারন সম্ভবত সে গাছ বেয়ে উঠত। সিঁড়ি দিয়ে নামারও কোন সুযোগ তার ছিল না। কারন সিঁড়িতে আরেকজন দাঁড়িয়ে ছিল। তারপরেও সিঁড়ি বেয়ে প্রায় তিন চার ফুট নামল। কিন্তু তার আগেই দরজার সামনে আমার সাথে দাঁড়িয়াবান্ধা খেলতে গিয়ে তার একটা পা ভেঙে গিয়েছিল বোধ হয়। চিৎ হয়ে পা নাড়াচাড়া করে সিঁড়িতেই শুয়ে থাকল। অসহায় ইঁদুর জন্ম। সাড়ে তিন তলার উপরের সিঁড়ি থেকে তাকে ধাক্কা দেয়া হলো। নিচে পড়ে যাওয়ার ছোট একটা শব্দ চারতলা পর্যন্ত এসেছে।
মানবপ্রজাতির সুপ্রিমেসি নির্দেশক হিংস্রতায় কেমন কেমন বোধ আর ঘর ঘর সিকিউরিটির এক মিশ্র অনুভব। বিষাদ ও হর্ষ। হর্ষ ও বিষাদ। বিষাদ ও ...
ঢুকে এবার ভিতর থেকে বন্ধ করলাম দরজা। হাই কমোড বেশি হাই হয়ে যাওয়ায় সে নিচে বসে আছে দেখলাম। আমি দাঁড়িয়ে থাকলাম। সে কিছুক্ষণ দরজা অবধি ছুটাছুটি করল। তারপর দেখাল যাদু। হ্যান্ড শাওয়ার বেয়ে বেয়ে (শাওয়ার ব্যবহারের জন্য কিনা জানিনা) শাওয়ারের উপর গেল। শাওয়ার দুয়েকবার প্রেস করার চেষ্টা করে আমার দিকে তাকিয়ে ঝাপ দিল কমোডের ভিতর।
তারপর আমার সুবুদ্ধি হলো। তার সুইমিং এবং শৌচকার্য যথাযথভাবে সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে কমোডের ঢাকনা লাগিয়ে দিলাম। পানি বাড়ানোর জন্য একবার ফ্লাশও করলাম। এখন সে সাঁতরাচ্ছে। আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি।
ভাবছি একটা গান লিখব - সাঁতারের আওয়াজ শুনি।
...
আমার নিজেরও আজ দুপুরে জহু হলের পুকুরের কথা মনে জেগেছিল। সাঁতারের জন্য। রোজার মাসে ব্যাপারটায় যুঁত পাওয়া যাবে না ভেবে সেই চিন্তা বাদ দিয়েছি। (২৫ মে ২০১৮)
৩.
বোনাস হিসেবে থাকছে একটি রুশ কবিতা। যার অনুবাদক আমি নই। (উৎস: রস+আলো, জানুয়ারি ২০১৪)
ইঁদুর-বিড়াল
-সেমিওন আলতভ
রাতের আকাশে ভেসে এল বিমানের শব্দ।
‘আমাদের আত্মীয়রা উড়ছে,’ মাঠের ইঁদুর বলল তার কন্যাকে।
‘কারা আমাদের আত্মীয়?’
‘কারা আবার! উড়ন্ত ইঁদুর*।’
‘ইঁদুররা কি সত্যিই উড়তে পারে?’ বিস্ময় প্রকাশ করল ইঁদুর-কন্যা।
‘খুব প্রবলভাবে কল্পনা করলে একসময় সেই কল্পনা সত্যি হয়ে ওঠে।’
পরদিন সকালে গর্তের পাশে বসে ইঁদুর-কন্যা তার সব শক্তি প্রয়োগ করে কল্পনা করতে শুরু করল এবং ভাবতে থাকল, যেকোনো মুহূর্তে সে উড়তে শুরু করবে।
পাশ দিয়ে যাচ্ছিল এক বিড়াল। সে কল্পনা করছিল পেট ভরে খাওয়ার। এবং তার কল্পনা সত্যি হয়ে উঠল তৎক্ষণাৎ।
ইঁদুর-কন্যার কল্পনা কি পূরণ হয়েছিল? বলা মুশকিল।
যেহেতু একেক জনের স্বপ্ন একেক ধরনের, ফলে দুঃখজনক ঘটনা ঘটে প্রায়ই। একজন স্বপ্নচারীর মৃত্যু হয়, কারণ, বাস্তবায়িত হয় অন্য স্বপ্নচারীর স্বপ্ন।
তাই উপদেশ দিয়ে রাখি: স্বপ্ন দেখার আগে চারপাশটা দেখে নিন ভালো করে। নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনার আশপাশে কেউ স্বপ্ন দেখছে না। নইলে স্বপ্নপূরণ হবে বটে, তবে স্বপ্নটা আপনারটা কি না, নিশ্চিত নই।
* রুশ ভাষায় বাদুড়কে বলা হয় ‘উড়ন্ত ইঁদুর’।
রাষ্টীয় পোশাক
প্রবল দম্ভে উড়তে থাকে পত পত
যেমন গ্রেট বৃটেনের নেংটি একদা এডুইন পিয়ারি উড়ায়েছেন মেরুর বাতাসে
(তুষার ঢাকা শ্বেতগৌরবের বেনজির মৃত্যুর আগে)
এই কালে হরেক রঙে বর্ণিল
নানারঙ দক্ষিণ এশীয় জাঙ্গিয়ারর মত
ডিকশনারির শেষ কয়েক পাতায়
(শৈশবে বহুবার দেখা)
রাষ্ট্র মাত্রই স্বল্প বসন নেংটি পইরা থাকে শুধু
উলঙ্গ ক্ষমতার দাঁতনখখামচিকামড়মৃত্যু
মানুষের কেন চোখে পড়ে না, বুঝিনা
বিষাক্ত নাগিন কালের খুনী বাতাসে
ফড় ফড় দুলে দুলে উড়তে থাকে রাষ্ট্রের একটুকরা নেংটি
আর ইঁদুর-মানুষেরা ভয়ে ভয়ে নাড়তে থাকে একখানি পলাতক লেজ…
-
পতাকা (০৩/০৯/২০১৭)
Sunday, June 3, 2018
শোক অতিক্রম
নয় দোয়েল পাখি
পড়ে আছে একটা দলানো ফ্রক যেন
ফ্রক নয় শিশু এক
মানুষের শিশু নয়
একটা বিড়াল শিশু
পড়ে আছে বৃষ্টি ধোয়া রাজাবাজারের রাস্তায়
শোক করার জন্য কোন কিশোর আশপাশে নেই
আমি অফিস যাচ্ছি
আইপিএস কাঁধে হেটে যাচ্ছে এক পরহেজগার সাজ
ঘুমে চোখ বুজে আছে দুপাশের দোকানপাট
রমজান কিংবা মানুষের নানান গন্ধ সবদিকে...
মানবজাতি তার শোক অতিক্রম করতে পেরেছে।
বিশেষত মাথা থেতলানো বিড়াল এবং আরো অন্যান্য মৃত প্রাণীর শোক।
বিশেষ এই মার্তৃভূমিতে।
-
২ জুন ২০১৮
Wednesday, May 23, 2018
~মন দা~
~মন দা~
(মন্দা বা ডিপ্রেসন বিষয়ক)
সাধু গৌতমের ধ্যান জ্ঞান তার জানা থাকবার কথা নয়।
মাওলানাদের মুখের দিকে।
নেতাদের ঠোঁটের দিকে।
জেল দারোগা জজ সাহেব উকিল সম্পাদক সিইও -
বুদ্ধি বিক্রির সকল পেশার পরিষ্কার মুখমণ্ডলের দিকে।
ঠিক তার পরদিন
শহরের সবচে তীক্ষ্মবুদ্ধির বিক্রেতা
পাণ্ডিত্যের গৌরবোজ্জল ব্যবসায়ী
পৃথিবীর সকল সভ্যতার কলা জ্ঞানের দুঁদে পাঠক
.
২৩ মে ২০১৮
প্রতিদিন রাষ্ট্রের ছবি
“যদি কেউ দেখতে চায় সূর্যের আলো, সে যেন মুছে নেয় নিজেরই চোখ”?
কাটা পড়ে কাঠ হয় টেবিল চেয়ার খাটে
দাঁড়ায় সটান পায়ে শুয়ে থাকে মসৃণ তল
কোন গাছ বিদ্রোহ করেনি।
গাছেরা বলেনি -
‘আজ থেকে সব ফুল বারুদ হয়ে যাবে
সব ডাল ইস্পাতের ঢাল
সব ফল প্রাণঘাতী বিষের কৌটা
আমাদের বিদ্রোহ আবাবিল মানুষের প্রতি’
কাউকে রেহাই দিবে না আকাশের জল’ -
এতটা পোয়েটিক রেভুলুশনারি থট
বিশ্বাস করবে না কেউ; এমনকি কবিদের মহাপুরুষ ইউনানী দার্শনিক রাজাও
কারো কারো আছে পলিথিন
কারো কারো টিনের গাড়ির ছাদ
কারো কারো বৃষ্টির পর গা মোছার গামছা
বরফ বরফ নরোম বাতাস
মাঝে মাঝে ঘুর্ণিতালে সাপের চোখের মত নাচ
উঠানে মরবে যে কেউ মেঘের বজ্রচুম্বনে
কে আছে মেঘে?
কে আছে জলে?
কে আছে?
কে?
~প্রতিদিন রাষ্ট্রের ছবি~
২৩ মে ২০১৮
Monday, April 23, 2018
কাঠাল গাছের জন্য শোক
Sunday, March 25, 2018
চুলের ... নীতি
চুলের ... নীতি
Saturday, March 10, 2018
বিষাক্ত প্রার্থনা
বিষাক্ত প্রার্থনা
-
23/01/2018
Wednesday, January 24, 2018
আমি অতো তাড়াতাড়ি কোথাও যেতে চাই না - অথবা - miles to go before I sleep
ঊনিশ শতকের মার্কিন কবি রবার্ট ফ্রস্ট (১৮৭৪ - ১৯৬৩) এক তুষার ঝরা সন্ধ্যায় থেমেছেন এক অপরিচিত বনের পাশে। মনোরম, ঘন এবং গভীর এক বনের সৌন্দর্যে থমকে থাকার তুষার সন্ধ্যা। সৌন্দর্য হন্তারক। সুন্দরের আশ্চর্য মারবার ক্ষমতা আছে। বিস্ময়ে আন্দোলিত কবি যেমন বলে ওঠেন - মরি হায় হায়রে! বছরের সবচে অন্ধকার সন্ধ্যার যে রূপে কোন মানুষের আনন্দে মরে যেতে ইচ্ছে করতে পারে রবার্ট ফ্রস্ট তেমন সুন্দরের সেই প্রলোভনকে পিছনে ফেলে ‘বুদ্ধি’র ডাকে সাড়া দিয়েছেন।
“The woods are lovely, dark and deep,
But I have promises to keep,
And miles to go before I sleep,
And miles to go before I sleep.”
ফ্রস্ট নয়, ফ্রস্টের কবিতার এক অশ্বারোহীর কথা। যদিও মরিবার মত সুন্দর এক ঘন, গভীর, প্রেয়সী বনের তুষার রাত্রি দেখা দিয়ে গেল। এমন রাত্রে মনে হতে পারে “সাধ ছিল মরে যাব তরুণ বয়সে/ যেদিন আকাশ ব্যেপে ফুল্ল চন্দ্রলোক/ ছড়াবে মধুর হাসি, ভ্রমরের অপূর্ব ঝঙ্কার/ জেগে রবে ফুটি ফুটি চম্পকের বনে, জাগাবে/ বুকের তলে করুণ বেদনা।” তেমন এক রাতে অভ্যস্ত জীবন ছেড়ে “অন্তরে যে বাঁশি বাজে তার সুর ধরে/ একাকী গমিত হব নক্ষত্রের পথে/ দেবতার পুত্র আমি এখানে কি কাজে আছি।” (ছফা: ২০১০)। মরে যাওয়ার মত সুন্দর এই রাত্রে নক্ষত্রের পথে উড়েনি সে পথিক। নিজেকে জাগিয়েছে আরো গভীরভাবে - জীবনের সাথে ওয়াদা রাখতে হবে আর ঘুমের আগেই যেতে হবে আরো অনেক দূর। হয়তো বুদ্ধির ডাক নয়, আরো গভীর কোন সুন্দরের নাম। ঘন, গভীর, প্রেয়সী বনের চেয়ে সুন্দর জীবনের প্রতিশ্রুতি। আরো কিছু পথ পেরোলেই যেখানে যায় ফ্রস্টের অশ্বারোহী।
১৯২২ সালের দিকে ফ্রস্ট যখন এই কবিতা (Stopping by Woods on a Snowy Evening) লেখেন তখন মানুষেরা ঘোড়ার পিঠ থেকে নেমে মোটর গাড়িতে উঠতে শুরু করেছে। ঊনিশ শতকের শেষ দিকে একটা দুইটা দিয়ে শুরু হয়ে মোটরে চড়া মানুষ ১৯১০ এর দশকে বাংলার রাস্তায় ছুটতে শুরু করে।
জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯-১৯৫৪) এর জীবনে ‘ঊনিশ শো চৌত্রিশের’ “একটা মোটরকার খটকা নিয়ে আসে।” কবি বলছেন ঊনিশ শো চৌত্রিশের মডেলের একটা মোটরকার ঝকমক করছে, ছুটছে লাল সুরকির রাস্তায়। যদিও ‘এই মোটর অগ্রদূত, সে ছুটে চলছে যেই পথে সকলের যাওয়া উচিত’, তবুও তার কাছে মোটর কার সব-সময়েই খটকা এবং অন্ধকারের মতো মনে হয়েছে। বিস্ময় কিংবা খটকালাগা কবি জানাচ্ছেন ‘রাতের অন্ধকারে হাজার হাজার কার হু হু ক’রে ছুটছে/ প্যারিসে - নিউইয়র্কে - লন্ডনে - বার্লিনে - ভিয়েনায় - কলকাতায়’। মোটরকার ছুটে চলছে ‘মানুষ-মানুষীর অবিরাম সংকল্প ও আয়োজনের অজস্র আলেয়ার মতো’।
তিনি তবু ছুটতে চান না, রবার্ট ফ্রস্টের অশ্বারোহীর মতো। বরং তার জীবনের হিসাব ঠিক উল্টো:
“আমি অতো তাড়াতাড়ি কোথাও যেতে চাই না;
আমার জীবন যা চায় সেখানে হেঁটে হেঁটে পৌঁছুবার সময় আছে,
পৌঁছে অনেকক্ষণ বসে অপেক্ষা করবার অবসর আছে।
জীবনের বিবিধ অত্যাশ্চর্য সফলতার উত্তেজনা
অন্য সবাই এসে বহন করুক: আমি প্রয়োজন বোধ করি না :
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।”
জীবনানন্দ কিংবা রবার্ট ফ্রস্টের অশ্বারোহী - কেউ ঘুমাতে যেতে চায় না এখানে। ‘মড়ার কবর ছেড়ে পৃথিবীর দিকে ছুটে গেল’ তাদের মন। নগরের রাস্তার আলোতে কিংবা তুষার শাদা বনের অন্ধকারে কেউ থেমে নেই। কেউ হাটছে নক্ষত্রের কণা বুকে নিয়ে, কেউ ছুটছে সংকল্পের খুরে ভর দিয়ে।
বুদ্ধিমান মানুষ জীবনের অবিরাম সংকল্প, মোটর কারের মত ছুটে চলা জীবনের বিবিধ অত্যাশ্চর্য সফলতা, অথবা নক্ষত্রের নিচে হাঁটতে থাকা এক পথিক জীবন - জানিনা কে বেশি সুন্দর। সবাই দাঁড়িয়ে আছে সবুজ সড়কে!
-
সূত্র:
১. Stopping by Woods on a Snowy Evening, রবার্ট ফ্রস্ট
২. সাধ, আহমদ ছফা। আহমদ ছফার কবিতা সমগ্র, খান ব্রাদার্স অ্যান্ড কোম্পানি, ২০১০।
৩. উনিশশ চৌত্রিশের, জীবনানন্দ দাশ। প্রকাশিত-অপ্রকাশিত কবিতাসমগ্র, অবসর: ১৯৯৪/ ১৫শ মূদ্রণ: ২০১৬)। জীবন, ধূসর পাণ্ডুলিপি, জীবনাননন্দ দাশ।
৪. http://www.kolkataonwheels.com/the-first-car/
--
This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial 4.0 International License.
জুলাই আদেশ বিষয়ে
জুলাই আদেশ বিষয়ে ছবি: জেমিনাই তর্ক এবং কুতর্ক আলাদা নিশ্চয়ই। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে সাংবিধানিক মুহূর্ত তৈরি হয়েছে তাকে ব্যর্থ করে ...
-
মুক্তিযুদ্ধ ও ইসলাম পরষ্পরকে বিরোধী হিসেবে বয়ানের অন্তত দুইটা ধারা আছে। এই দুই ধারা একে অপরের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। একদল মুক্তিযুদ্ধের দখল চায়...
-
যার যা কাজ, সে তা ঠিকঠাক করলেই ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র ভাল থাকে। মানুষের সুখ-শান্তি বাড়ে। জীবনের জটিলতা কমে। যার যা কাজ, সে যেন তা করে - এই ক...
-
১. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্টুডেন্ট থাকার সময়ে আমাদের পাশের হল - এফ রহমান - এর আবু বকর নামে এক স্টুডেন্ট নিহত হন। ছাত্রলীগের দুইপক্ষের মারামারি...