Tuesday, November 14, 2023

মহামান্য ট্রাক

মহামান্য ট্রাক। তোমার ব্রেক নাই কেন? সমগ্র বাংলাদেশে ফুলস্পিড ওজন তোমার, পিষতে থাকে গৃহপালিত হাড়গোড়। 

মহামান্য ট্রাক, তুমি কি আজরাইলের ভ্রাম্যমাণ অফিস? সতেজ টাটকা জীবন সব মিশমার কইরা তুমি যাইতেছ উরাধুরা … 

মাননীয় ইসপাতের ট্রাক, আর কত পিষবা আমাদেরে …
_
৮/১১/২০২৩
পূর্ব রাজাবাজার


Creative Commons License
This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial 4.0 International License.

Monday, November 13, 2023

জারুল ফুল


মেঘছায়া নীরবতায় সবুজ রোদের দিনে
হৃদয় টুকরো করে শূন্যতা কিনে
আমাদের বারান্দা থেকে
প্রেম উড়ে গেলো।

আমি ঝুলে রইলাম নব্বইয়ের ঢাকায়।
ঢোলা শার্টের পকেটে ভাঁজ করে অতীত জমায়ে রেখে -
প্রতিদিন উদাসীন রিকশায় শাড়ি দেখে দেখে,
আমার কাটছে কাল কলকল স্রোতের ধ্বনি মেখে।

মাঝে মাঝে বেলা করে নিলাজ ঘুমের মাঝে,
জারুলের সাহসী রঙের ধারা ঘুম ভেঙে দিলে,
হাওয়ায় উড়ায়ে দিয়ে অবসাদের সকল আহ্বান,

নতুন শতাব্দী থেকে ভেসে আসে অন্য হলুদ পাখির ঘ্রাণ।
_

১২/১১/২০২৩
পূর্ব রাজাবাজার

Creative Commons License
This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial 4.0 International License.

Wednesday, November 8, 2023

ইতিহাস, আমার কথাও একটু শোনো

ইতিহাস,

আমারে একটা পাতা দিয়ো -

কোণা ছেঁড়া, ভাঁজ পড়া, খয়েরি পাতা।

সেখানে আমার অতি সাধারণ পিতামহের নাম লিখব,

লিখব কৃষক প্রপিতামহ এবং তাদের পূর্বপুরুষদের নাম।

তারা দাস ছিল না,

তারা ছিল স্বাধীন,

মেঘনার জোয়ারধোয়া গ্রামে 

ফসলের উদ্ধত সাহসের মত সূর্যমুখী!

সেই সকল পূর্বপুরুষের নাম যদি আমি কোথাও না লিখি

তাহলে - কষ্ট পাবে পৃথিবী এবং আরো সব জীবিত আবাসভূমির আত্মা;

ইতিহাস, তুমি আমার কথাও একটু শোনো -

আমারে একটা পৃষ্ঠা দিও,

রাইখো না সব কাগজ কোন বখত-নসরের কলমের অমোচনীয় কালির নিচে …


_

অক্টোবর ২০২৩ 


Creative Commons License
This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial 4.0 International License.

Saturday, November 4, 2023

Failure of Constitutionalism in Bangladesh

Constitutionalism এর বিভিন্ন নীতি গ্রহণ করা সত্ত্বেও বাংলাদেশে রাজনৈতিক এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহ দুর্বল রয়ে গিয়েছে। মূলত বাংলাদেশে Constitutionalism এখন পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। বরং রাষ্ট্র ব্যবস্থা তৈরিতে Constitutionalism চর্চার বদলে বাংলাদেশে খেয়ালি বিধির শাসনই চলেছে বারবার।
রাষ্ট্রের সাংবিধানিক সেই দুর্বলতাকে শুধুমাত্র সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ করে ফেলার মানে রাষ্ট্রীয় জীবনে অল্প চাওয়ার বিভ্রম। এই বিভ্রমে রাখতে পারলে কোন কোন রাজনৈতিক দলের সুবিধা হলেও বাংলাদেশের জনগণের লাভ হবে না।
বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংকট সুষ্ঠু নির্বাচন না করতে পারার চেয়ে বিস্তৃত এবং জটিল। সুষ্ঠু নির্বাচনের উপায় সহ বাংলাদেশের রাষ্ট্র কাঠামো ঠিকঠাক করতে সাংবিধানিক সংস্কারের বিকল্প নেই। কাজেই সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রশ্ন সাংবিধানিক সংস্কারের অংশ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটের পূর্ণাঙ্গ সমাধান হিসেবে নয়।
আজকে বাংলাদেশের সংবিধান দিবস। ১৯৭২ সালের ৪ নবেম্বর গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়। ৭২ এর সংবিধানের বৈধতার প্রশ্ন, এবং সেই সংবিধানের দুর্বলতার বাইরে - ৭২ এর পর থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সাংবিধানিক যাত্রা প্রধানত নেতিবাচক। মানুষের অধিকার আর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের বিরুদ্ধে এই সংবিধানকে বাঁধা হিসেবে হাজির করা হয়েছে বহুবার।এবং সেই প্রয়োজনে সংবিধানকে কাঁটাছেড়াও করা হয়েছে।
.
বাংলাদেশের সংবিধান বিষয়ে এ বছর (২০২৩) খুব জরুরি চারটি বই প্রকাশিত হয়েছে। দুটি বই রাজনৈতিক করণীয় কি হবে তেমন অবস্থান থেকে লিখিত এবং বাংলা ভাষায়। আর ইংরেজিতে লিখিত দুটি একাডেমিক গবেষণার বই প্রকাশিত হয়েছে দেশের বাইরে, যা সংবিধানের গতানুগতিক ন্যারেটিব থেকে কিছুটা বেরিয়ে সংবিধানের বিভিন্ন বিষয়ের একধরনের আন্তঃশাস্ত্রীয় অনুসন্ধান। এছাড়া গত বছরের শেষে (২০২২) প্রকাশিত হয়েছে আরেকটি জরুরি পর্যালোচনা, ৭২ এর গণপরিষদে সংবিধান বিতর্ক বিষয়ে। এখানে বইগুলোর তালিকা করা হয়েছে আপনাদের সাথে পরিচিত করানোর জন্য।
১. ফরহাদ মজহার 'গণ অভ্যুত্থান ও গঠন - বাংলাদেশের গণরাজনৈতিক ধারার বিকাশ প্রসঙ্গে' বইয়ে রাজনৈতিক তত্ত্বের জায়গা থেকে রাষ্ট্র গঠন এবং রাষ্ট্র গঠনের ক্ষমতা যে কেবলমাত্র জনগণের (পপুলার সভরেইনটি) সেই ন্যারেটিব হাজির করেছেন। শুধু সংবিধানেই রাষ্ট্রের গঠন সীমাবদ্ধ নয়, এমনকি প্রচলিত রাজনৈতিক বর্গগুলোও যে চিন্তায় অতিক্রম করা প্রয়োজন, সেই প্রয়োজনীয় কাজের কথাই তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন। এই বইয়ের প্রকাশক রাষ্ট্রচিন্তা।
২. রাষ্ট্রচিন্তার প্রকাশিত আরেকটি বই হচ্ছে হাসনাত কাইয়ূমের 'রাষ্ট্র সংস্কারের রাজনীতি: তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক দিক'। এই বইতে সংক্ষিপ্তভাবে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সংস্কারের জন্য সংবিধান সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা এবং কিভাবে তা করা যেতে পারে তথা একটি রোডম্যাপ হাজির করা হয়েছে।
৩. বাংলা ভাষায় রচিত গত বছরের শেষ দিকে প্রথমা থেকে প্রকাশিত আসিফ নজরুলের 'সংবিধান বিতর্ক ১৯৭২ - গণপরিষদের রাষ্ট্র ভাবনা' উপরের দুটি বইয়ের সাথে সংবিধান সংস্কারের আলোচনা বুঝার জন্য সম্পূরক বই। এখানে ১৯৭২ সালের সংবিধান রচনাকারী গণরিষদ 'বিতর্ক' সারসংক্ষেপ এবং পর্যালোচনা করা হয়েছে।
৪. M Rafiqul Islam এবং Muhammad Ekramul Haque এর সম্পাদনায় Springer থেকে প্রকাশিত The Constitutional Law of Bangladesh - Progression and Transformation at its 50th Anniversary সংবিধানের একটা বিস্তৃত কমেন্টারির মত। বইটি কমেন্টারির চাইতে বেশি কিছু হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের সংবিধানের বিদ্যমান সংকটগুলোকে তুলে ধরার মাধ্যমে। গণতন্ত্রের ছদ্মাবরণে স্বৈরতন্ত্রের মধ্যে যাতে ঘুরপাক খেতে না হয় সেই জন্য বাংলাদেশের সংবিধান মেরামতের কথা উচ্চারিত হয়েছে এই বইয়ে। এর পাশাপাশি নতুন নতুন কিছু চিন্তাও এই বইয়ে রয়েছে।
৫. Ridwanul Hoque এবং Rokeya Chowdhury সম্পাদিত A History of the Constitution of Bangladesh: The Founding, Development, and Way Ahead - বইয়ে বাংলাদেশের সংবিধান বিষয়ে কিছু শক্তিশালী পর্যবেক্ষণ হাজির করা হয়েছে। বাংলাদেশের সাংবিধানিক যাত্রা যেসব প্রমিজ নিয়ে শুরু হয়েছিল সেসব যে অধরাই রয়ে গেছে গত পঞ্চাশ বছরে সে কথা সংবিধানের একাধিক বিষয়ের আলোচনায় এসেছে। Abusive constitutionalism এর অনেক নমুনা যে বাংলাদেশে দেখা গিয়েছে সেসব পর্যবেক্ষণও পাওয়া যাবে এখানে। বইটি প্রকাশিত হয়েছে Routledge থেকে।
.
বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবিতার দুর্বলতার কথা আমরা বিভিন্ন মুখরোচক উপায়ে শুনি। বুদ্ধিজীবিদের কথা শুনলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না, তারা এখন যা বলছেন তা শুনলে বাংলাদেশ অগ্রসর হবে না - ছফার এমন তীর্যক মন্তব্যের সপক্ষে বহু প্রমাণ হাজির করা যাবে। তবে উপরের বইগুলো থেকে একটা বিপরীত উদাহরণই পাওয়া যাবে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বুদ্ধিজীবিতা এবং একাডেমিক গবেষণা একটা বাস্তবতাকে অস্বীকার করতে পারছে না, এবং তা বাংলাদেশের জন্য বহু জরুরি চিন্তা ও আলাপের সূচনা হিসেবে দরকারি; সেই বাস্তবতাটি হচ্ছে - বাংলাদেশের রাষ্ট্র গঠন সংক্রান্ত সংকট এবং সাংবিধানিক সংকট।

[৪ নবেম্বর ২০২৩ তারিখে ফেসবুকে পোস্ট করা হয়েছিল।]

Creative Commons License
This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial 4.0 International License.

Wednesday, April 12, 2023

মেমরি

মনে রাখা মাঝে মাঝে খুবই বাজে ব্যাপার।
মানে - মেমরি - প্রশ্নাতীত গৌরবের বিষয় না মোটেই।
যেমন - ধইন্যা পাতা -
আমার ত মনে আসে এর অন্য নাম -
যখনই দেখি এই সোয়াদি পাতা
যখনই ধুইতে যাই বেসিনে
যখনই তারা থাকতে চায়না হাতের মইধ্যে
তারপর কুচি কুচি করি তাদের
আর ছুরির নিচে যেন হঠাৎ চমকায়ে ওঠে মেমরি
আর কথা কয় ধইন্যাপাতা: 'আমার নাম অন্য কিছু...'
আমি তখন কই - মনে থাকা কোন ভাল ব্যাপার না।
মানে - মেমরি - প্রশ্নাতীত অহম না মোটেই।
তারো আগে আগে ভুল করে একবার -
মুগডাল আর চাল - হালকা ভাজা হয়ে যায় বিভিন্ন মশলার ভেতর
তারা যে উৎপাত করে ঘ্রাণে -
আমি বলি এইভাবে ত মুগডালের ঘ্রাণ ছড়ানো উচিত না আর কোনদিন
কেননা এই সুবাস প্রেমের মতন প্রাচীন
তারপর পানি ঢালি, মিশায়ে দেই বরফজমা রঙিন সবজি
তবু ভাজা মুগডালের ঘ্রাণে যেনবা জাতিস্মরের মতন
আমারে ভাসায়ে দেয় পুনর্জন্মের স্মৃতি
আমি তখন কই - এই ইমোশনের বিচিত্র পুনর্জন্ম কোন ভাল ব্যাপার না।
মানে - মেমরি - প্রশ্নাতীত কোন খাবার না মোটেই।
যেহেতু সময় কম মাঝে মাঝে
এবং যেহেতু ইতর-কিংবা-বিশেষ সকলরই আহার প্রয়োজন
আর চিকেন কোন পাখি না, তাই তারা টুকরা টুকরা হয়ে
ইতালিয়ান সিজনিং, গোলমরিচের গুড়া, ম্যায়ো এবং লেবুর রসে জিরায়
তারপর তারা গরম তাওয়ায় কিংবা গ্রিল প্লেটে পোড়া গন্ধ ছড়াইতে থাকে
রোজমেরি - যেনবা মশলার বাইরে তার কাজ মেমরি খোচানো -
সে কেমনে কেমনে যেন আসর করে মাথার ভিতর
আমি কই - এই রোজমেরির আসর কোন ভাল ব্যাপার না।
মানে- রোজ রোজ মেমরি - নিরূপদ্রব কোন মশলা না মোটেই।
ধইন্যা পাতার কসম,
ভাজা মুগডালের কসম,
কসম রোজমেরি এবং তার সখিদের -
আমি জানি মেমরি মাঝে মাঝে খুবই বাজে ব্যাপার।
_
মেমরি/
এপ্রিল ১১, ২০২৩

Creative Commons License
This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial 4.0 International License.

Saturday, April 8, 2023

ফিনিক্স দাঁড়কাক শকুন ও অন্যান্য পাখিরা

ফিনিক্স পাখি নিয়া অনেক বই পুস্তক আছে। প্রাচীন গ্রিক আমল থেকে শুরু করে রোমানদের লাতিন, আরব জাহানের আরবি এবং বাংলার চেয়ে বয়সে ছোট ইংরেজী ভাষায় অনেক বই পুস্তক অনেক কাইজ্জা।

আমাদের বন্ধুবর হজরত Ferdows AL Hasan একদা ফিনিক্স পাখির প্রেমে পড়েছিলেন। জগন্নাথ হলের এক বিতর্কে তিনি ফিনিক্স পাখির পক্ষে বারোয়ারি বিতর্ক করেছিলেন। তারপর থেকে ফিনিক্স পাখির কথা পড়লে ফেরদৌসের কথা মনে পড়ে। ব্রেইন এইভাবে বিভিন্ন বিষয় জোড়া দিয়ে রাখে বলেই আমরা মনে রাখতে পারি।

যাহোক, ফিনিক্স পাখি প্রাচীন মিসরে সূর্য দেবতার আশীর্বাদ। এই পাখি আরব জাহানের উপর দিয়া উড়ে এসে মিসরে মৃত্যুবরণ করতো। তারপর তার ভস্ম হওয়া দেহ থেকে আবার জন্ম নিত নতুন পাখি।

ফিনিক্স পাখি আসলে কেউ দেখেছে কিনা এই নিয়া সন্দেহ আছে। দ্বন্ধ আছে ফিনিক্সের মালিকানা নিয়া। ঐতিহাসিক পি কে হিট্টি বিশ্বাস করতেন ফিনিক্স আরবের পাখি। ইউরোপ আম্রিকা তথা পাশ্চাত্যের আরব আবিষ্কারের যেই গ্রন্থের নাম তিনি দিয়েছেন - হিস্ট্রি অব দ্যা আরবস সেই গ্রন্থ তার বিশ্বাসের সাক্ষী।

ফিনিক্স পাখির সাথে উড়াউড়ি করে নিজের অজ্ঞানতা আবিষ্কার করার পর খানিকটা মোলায়েম দুঃখ হইলো বাঙালের পাখিরাও কি দুর্বল আর ছোট। ঈগল কিংবা বাজ পাখিদের বাঙাল মনে হয়না শিকারের জন্য কোন কালে পোষ মানিয়েছে। মাছ খাওয়ার জন্য দুয়েকটা মাছরাঙা, বক, কিংবা পানকৌড়িকেও ট্রেনিং দেয় নাই।

দাঁড়কাক কিংবা Raven ভুটানের জাতীয় পাখি। এতো বুদ্ধিমান এর সাহসী একটা পাখির সাথে বাঙালির খাতির আরেকটু বেশি হওয়ার দরকার ছিল। শকুন কেন বাঙালীর অভিশাপ আর ঘৃণার শিকার হলো তা বুঝতে গেলে বাঙালী বিচারজ্ঞান নিয়ে সন্দেহ আরো শক্তিশালী হয়। শকুন নামক পাখিটা বাঙালীর কাছ থেকে যে অন্যায্য ‍দুর্নামের শিকার হয়েছে তার প্রায়শ্চিত্য না করলে বাঙালের শিক্ষা পূর্ণ হবে না।

মহাভারতের রামগরুড় বাংলায় উড়েছিল নাকি সংস্কৃত শ্লোকেই কেবল দুলেছিল তা জানি না।

পেঁচাকেও বাঙাল খুব পছন্দ করে না। বাঙালের সাম্প্রদায়িকতা অন্যায়ভাবে পেঁচাকে আক্রমণ করেছে। অল্পবয়সে আমরা ভাইবোনরা পেঁচাকে ভয় পেতাম। বিশেষত রাতে পেঁচার ডাক শুনলে ভয়ে কলিজা কেঁপে উঠতো। অবশ্য এই ভয় সম্ভবত শিখানো হয়েছিল। অথচ পেঁচার ডাকেও আমি ডাহুকের ডাকের মতন আনন্দের দিন পেতে পারতাম! বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে জীবনানন্দ এবং তারপরে পৌরাণিক ইউরোপে পেঁচার আধিপত্য, মহত্ত্ব, জ্ঞান বিজ্ঞান নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেখে এবং ইউটিউবে পেঁচাদের নিঃশব্দ উড়ালে মুগ্ধ হয়ে পেঁচাকে বেশিরকম ভালবেসে ফেলি। এছাড়া হেগেলের কাব্যিক বয়ান: মিনার্ভা দেবীর পেঁচা, ডানা মেলে সূর্য ডোবার পর - শুনতে বড় ভাল লাগে।

বাদ দেই এসব কথা। ফিনিক্স আসলে বাংলার পাখি না। ফিনিক্সের সাথে বাংলার ঐতিহাসিক কিংবা পৌরাণিক কোন সম্পর্কও নাই। বাংলার দাঁড় কাক দরকার। সাহসী, বুদ্ধিমান, উপকারী - দাঁড়কাকের বড় অভাব বাংলায়।

আর বাংলার কবি সাহিত্যিকদের উচিত অন্তত কয়েক শ বছর শকুনের কাছে ক্ষমা চাওয়া। শকুনের মত একটা নিরপরাধ এবং উপকারী পাখির প্রতি তারা যে অজ্ঞতাপ্রসূত ভাষাগত জুলুম করেছে তার জন্য তাদের উচিত ক্ষমা চাওয়া এবং বন্দনা লিখে দায় শোধ করা।

-
মে ২০২০
লালমাটিয়া, ঢাকা
(আমার পুরাতন ফেসবুক আইডিতে প্রকাশিত)


Creative Commons License
This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial 4.0 International License.

গুরুত্ব

পরীক্ষার খাতায় ‘... এর গুরুত্ব অপরিসীম’ অথবা '... is very important ...' জাতীয় লাইন ছাড়া বেশিরভাগ পরীক্ষার্থীর লেখা বের হয় না। যেমন মহামারী বিষয়ে কোন প্রশ্ন করলে প্রথম বাক্যটি হতে পারে ‘পৃথিবীতে মহামারীর গুরুত্ব অপরিসীম’ (Epidemic is very important in the world).

(আপনারা ভুল ধইরেন না আপাতত; বাঙ্গালী স্টুডেন্টদের world মানে পৃথিবী। Earth চিনানোর ভুগোল শাস্ত্র কিংবা world কে বিশ্ব বানানোর অনুবাদ শাস্ত্র এখনো বিকশিত হয় নাই। পাবলিক মানে সরকারি আর সরকার বিরোধিতা মানে রাষ্ট্রদ্রোহ - এমনসব ভাষিক জটিলতা ভাষাবিজ্ঞানীরা সমাধান করতে না পারলেও হাতিরা পারে। হাতির চারটি পা, আর সমাসের নিয়মে যার হাত আছে সেই হাতি। এইবার বুঝেন, হাতের তলায় পাদপিষ্ট এই ভাষায় সম্ভব। সম্ভব না হলে ননসেন্সও সম্ভব না।)

আপনাদেরকে সার্কাস ছাড়াই হাতি দেখায়ে এইবার ‘হাতি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী’ আলোচনায় ফেরত আনি। এমন বাক্য স্টুডেন্ট থাকা অবস্থায় আমি লিখেছি কিনা দয়া করে তা জানতে চাইবেন না। তবে মাস্টার হিসেবে আমি স্টুডেন্টদের এমন বাক্য না লেখার পরামর্শ দেই। পরীক্ষার খাতায় মাস্টারদের বিরক্ত না করার সাথে নম্বরের কার্যকারন বিষয়ক অনুমেয় সম্পর্কের কারনে স্টুডেন্ট লাইফে মাস্টারের পরামর্শ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

উত্তর লেখা সংক্রান্ত কিংবা মৌখিক বক্তব্যে এই ‘গুরুত্বপূর্ণ’ স্বভাব ত্যাগ করা সহজ কাজ নয়। লোকেরা স্কুল কলেজ ভার্সিটি ত্যাগ করিতে পারে, কর্ম জীবনে অনেকে মাস্টার কিংবা বিভিন্ন প্রকার স্যার মহোদয় হইতে পারে। তবু এই ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বানান এবং উচ্চারণ ছাড়িতে পারে না।

গুরুত্ব বাড়ায়ে তুললে লঘুত্বও তীব্র হয়। আর গুরুত্ব যদি মাপার উপায় না থাকে তবে পাটখড়িও চন্দনকাঠ। সম্ভবত চিন দেশীয় প্রবাদ শুনেছি - মহৎ লোকদের অতিরিক্ত মহৎ করে তুললে সাধারণেরা আরো ছোট হয়ে পড়ে। মনের মধ্যে সংকোচ এবং আরো আরো সংকোচের চাপে দেহের চেয়েও ছোট জীবন নিয়ে এদেশে মানুষেরা দিনাতিপাত করে। জড়ো হতে হতে জীবন এখানে জড় বস্তুর নির্ভরতা ছাড়া আর অবশিষ্ট নাই। ন্যাংটা জীবন ওরফে জীববিজ্ঞানের জীব মাত্র হিসেবের মানুষেরা লঘু জীবনের খামতি মেনে লঘুতর এবং লঘিষ্ট সাধারণ গুনিতকের জীবনে নামিয়াছে।

ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র প্রত্যেকের লঘু গুরুর আলাদা হিসাব আছে।

লঘু-গুরু না মানলে লাঞ্চনার হুশিয়ারি ছোটবেলায় শুনেছি। জীবনে কোনটা লঘু আর কোনটা গুরু তা চিনতে না পারলে সামাজিক যন্ত্রনা অনেক। তবে কোন কোন সমাজে লাঞ্চনা তৈরির ক্ষমতা আর লাঞ্চনা সয়ে যাওয়ার দুর্ভাগ্য লঘু-গুরু নির্ধারক। যতই লাঞ্চিত হবে ততই লঘিষ্ট জীবন; অপরকে যতই লাঞ্চিত করিবে তোমার জীবন ততই গরিষ্ট হয়ে উঠবে। এমনই সামাজিক নিয়মে ভ্যাবাচেকা খাইতে খাইতে এখন আর খাওয়ার জায়গা নাই।

(খাইতে চাই নাই তবুও জীবনে দুইটা চড় আর ধরতে চাই নাই তবু দুইবার দুজনের পা ধরার পর এই সামাজিক শিক্ষা আমার হয়েছে। সামাজিক জীব হিসেবে ‍দুর্বল উপস্থিতি আমি তারপর মেনে নিয়েছি। লঘু-গুরুর সামাজিক বণ্টন আর আমার মূল্যবোধ ও শিক্ষার সাথে মিলে নাই।)

সমাজের কথা বললাম। পরিবারের কথা বলব না। রাষ্ট্রেরটা বলি। রাষ্ট্র তার লঘু গুরু হিসেবের জন্য সংবিধানের ঘোষণা ‘প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ’ মেনে চলতে বাধ্য। রাষ্ট্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তার ক্ষমতার মালিকরাই হবে এমনটাই সংবিধানের বক্তব্য। লঘু-গুরু মাপাতে রাষ্ট্র যদি সংবিধান না মানে তবে বুঝতে হবে রাষ্ট্রের বড় কোন অসুখ বিসুখ আছে।

রাষ্ট্রের যে ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স বা অর্ডার অব প্রিসিডেন্স ওরফে পদমানক্রম আছে তা শুধু অফিসারদের অনুষ্ঠানে প্রয়োগযোগ্য। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অফিসারদের কে কাকে সালাম দিবেন আর কে আগে বসবেন সেই গুরুত্ব নির্ধারনে এই পদমানক্রম অনুসরনীয়। পদমানক্রম শুধু পদমানক্রমে উল্লেখিত অফিসারদের পরস্পরের অগ্রাধিকার নির্ধারনে ব্যবহৃত হবে। নন-অফিসিয়াল কম্যুনিটিতে পদমানক্রম কাউকে কোন অগ্রাধিকার দিবে না; বরং এমন কম্যুনিটির রীতি অনুযায়ী তা নির্ধারিত হবে। ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স রাষ্ট্রের কাজে নির্বাচিত এবং নিয়োজিতদের গুরুত্ব নির্ধারক। জনগণের সাথে তুলনীয় কোন বিষয় নয়। জনগণের সাথে তুলনা করলে সংবিধান সর্বোচ্চ আইন, ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারে না। জনগণের সম্মিলিত ক্ষমতার সাংবিধানিক জিম্মাদার হিসেবেই রাষ্ট্রের কাজে নির্বাচিত এবং নিয়োজিতগণ পদমানক্রম মেনে চলেন।

গুরুত্বে পূর্ণ নয় কারা এমন কোন তালিকা কি কোথাও পাওয়া যায়? লঘুত্বের চাপে আছি।

লঘু-গুরু চিনলাম না এখনো। ফেসবুকের লঘুত্ব জীবনের গুরুত্ব নিয়া টানাটানি করে। আমি এই লঘু ও হালকা পোস্ট লেইখা সময় গুরুত্বের সাথে মশকরা করি।
-

মে ২০২০
/লালমাটিয়া, ঢাকা

(ফেসবুকে প্রকাশিত)

শেড অ্যাকুরিয়াম

মে ৮, ২০২২ শেড অ্যাকুরিয়াম গেলাম। সকালে উঠলাম দেরিতে। দায়ীন ভাইয়ের সাথে কথা বলেছিলাম গতকাল। তিনি ছিলেন শেড এর কাছাকাছি। তার আরেক বন্ধুর সাথে...