Sunday, March 25, 2018

চুলের ... নীতি

চুলের ... নীতি


এ এক প্রতিকূল জীবন
হয়তো কেউ হজম করতে পারবে না এ জীবন
পারবে না সে নিজেও
সাইকোলজিস্টদের মাপে এ জীবন থেরাপিময় স্বাভাবিক করে ফেলা যায়
কিংবা সুবিধা তত্ত্বের বিচারে হওয়া যায়
অনুগত দাসানুদাস
কিংবা ধুরন্ধর কপট ছিঁচকে মানুষ
সবচে ভাল তুই অপেক্ষা কর কেশপাকানো বছরসর্বস্ব জীবনের।

দুর্বল গবাদি পশুর জীবন কাটায় যারা
তারা আসে বছর বছর বাছুর বিয়ানোর হিসাব নিয়ে
যদিও তাদের মগজ থেকে বিয়োয়নি কোন নেংটি ইঁদুর কিংবা চামচিকের ছাও
তাদের একমাত্র নীতি তাদের কেশগুচ্ছের বয়স
তাদের ক্রমশ লাল কেশগুচ্ছে ঝুলে ঝুলে জমে থাকে
দীর্ঘ কুটনামিময় খড় ভূষি খাওয়ার অভিজ্ঞতা

আগের দিন ভাল ছিল নীতিতে তারা গৌরব মাখে
আগের দিনে তারা জন্মাইছিল হারিকেনের বাত্তিতে নিষ্ঠুর রান্নাঘরে
আগের দিনে পশ্চাদ্দেশে ঘষেছিল চেয়ারের পাটাতন
আগের দিনে গোসলের আগে তারা মেখেছিল সরিষার তেল
আগের দিনে তারা বগলে রেখেছিল কাঠের খড়ম
আগের দিনে ব্লেডের অভাবে তারা উপড়ে ছিল কেশগুচ্ছ
আহারে আগের কেশ
আহারে উঁকুন
আহারে পরজীবী তাহারা
লুকায়ে লুকায়ে রক্ত চুষে খাস আগের জীবনের শুরে।
...
মার্চ ২০১৮

Saturday, March 10, 2018

বিষাক্ত প্রার্থনা


বিষাক্ত প্রার্থনা

ক্ষমতা লোভ আর মানুষের সমস্ত লকলকে আগুনের জ্বিহবায়

পুড়িয়ে কোমল সব সবুজ হৃদয়ের পাতা

নিত্য উল্লাস ভীষণ বিভীষিকাময় এ মানব জন্মের তরে

সেইসব রক্ত পুঁজ অবসাদ - র‌্যামন্ড একস্টাসি রোলেক্স স্যামসাং 
ঢোলাঢোলা ভারী আবরণে জীবনের একপাশ ঢেকে
তবু যারা ভাবে আগামীর দিনে কোন এক মানুষের কি এক প্রয়োজন
বাকি আছে ভরে তুলবার

তাদের ধূসর মগজের ঘরে আমার শব্দের প্রেম 
অবসাদ ভুলে দিতে চাই তুলে একটু একটু স্নেহের মতন
এই দুঃসময়ে যারা প্রাণভরে সুখে বাঁচবে আর
ভাববে আগামী দিনের কথা
সেই সব দীর্ঘজীবী মানুষের অবিচল কর্মের রূপ 
জড়ো হোক আমাদের জীর্ণ এই দেয়ালে দেয়ালে।
-

23/01/2018

Wednesday, January 24, 2018

আমি অতো তাড়াতাড়ি কোথাও যেতে চাই না - অথবা - miles to go before I sleep


ঊনিশ শতকের মার্কিন কবি রবার্ট ফ্রস্ট (১৮৭৪ - ১৯৬৩) এক তুষার ঝরা সন্ধ্যায় থেমেছেন এক অপরিচিত বনের পাশে। মনোরম, ঘন এবং গভীর এক বনের সৌন্দর্যে থমকে থাকার তুষার সন্ধ্যা। সৌন্দর্য হন্তারক। সুন্দরের আশ্চর্য মারবার ক্ষমতা আছে। বিস্ময়ে আন্দোলিত কবি যেমন বলে ওঠেন - মরি হায় হায়রে! বছরের সবচে অন্ধকার সন্ধ্যার যে রূপে কোন মানুষের আনন্দে মরে যেতে ইচ্ছে করতে পারে রবার্ট ফ্রস্ট তেমন সুন্দরের সেই প্রলোভনকে পিছনে ফেলে ‘বুদ্ধি’র ডাকে সাড়া দিয়েছেন।


“The woods are lovely, dark and deep,   

But I have promises to keep,   

And miles to go before I sleep,   

And miles to go before I sleep.”


ফ্রস্ট নয়, ফ্রস্টের কবিতার এক অশ্বারোহীর কথা। যদিও মরিবার মত সুন্দর এক ঘন, গভীর, প্রেয়সী বনের তুষার রাত্রি দেখা দিয়ে গেল। এমন রাত্রে মনে হতে পারে “সাধ ছিল মরে যাব তরুণ বয়সে/ যেদিন আকাশ ব্যেপে ফুল্ল চন্দ্রলোক/ ছড়াবে মধুর হাসি, ভ্রমরের অপূর্ব ঝঙ্কার/ জেগে রবে ফুটি ফুটি চম্পকের বনে, জাগাবে/ বুকের তলে করুণ বেদনা।” তেমন এক রাতে অভ্যস্ত জীবন ছেড়ে  “অন্তরে যে বাঁশি বাজে তার সুর ধরে/ একাকী গমিত হব নক্ষত্রের পথে/ দেবতার পুত্র আমি এখানে কি কাজে আছি।” (ছফা: ২০১০)। মরে যাওয়ার মত সুন্দর এই রাত্রে নক্ষত্রের পথে উড়েনি সে পথিক। নিজেকে জাগিয়েছে আরো গভীরভাবে - জীবনের সাথে ওয়াদা রাখতে হবে আর ঘুমের আগেই যেতে হবে আরো অনেক দূর। হয়তো বুদ্ধির ডাক নয়, আরো গভীর কোন সুন্দরের নাম। ঘন, গভীর, প্রেয়সী বনের চেয়ে সুন্দর জীবনের প্রতিশ্রুতি। আরো কিছু পথ পেরোলেই যেখানে যায় ফ্রস্টের অশ্বারোহী।    


১৯২২ সালের দিকে ফ্রস্ট যখন এই কবিতা (Stopping by Woods on a Snowy Evening) লেখেন তখন মানুষেরা ঘোড়ার পিঠ থেকে নেমে মোটর গাড়িতে উঠতে শুরু করেছে। ঊনিশ শতকের শেষ দিকে একটা দুইটা দিয়ে শুরু হয়ে মোটরে চড়া মানুষ ১৯১০ এর দশকে বাংলার রাস্তায় ছুটতে শুরু করে।


জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯-১৯৫৪) এর জীবনে ‘ঊনিশ শো চৌত্রিশের’ “একটা মোটরকার খটকা নিয়ে আসে।” কবি বলছেন ঊনিশ শো চৌত্রিশের মডেলের একটা মোটরকার ঝকমক করছে, ছুটছে লাল সুরকির রাস্তায়। যদিও ‘এই মোটর অগ্রদূত, সে ছুটে চলছে যেই পথে সকলের যাওয়া উচিত’, তবুও তার কাছে মোটর কার সব-সময়েই খটকা এবং অন্ধকারের মতো মনে হয়েছে। বিস্ময় কিংবা খটকালাগা কবি জানাচ্ছেন ‘রাতের অন্ধকারে হাজার হাজার কার হু হু ক’রে ছুটছে/ প্যারিসে - নিউইয়র্কে - লন্ডনে - বার্লিনে - ভিয়েনায় - কলকাতায়’। মোটরকার ছুটে চলছে ‘মানুষ-মানুষীর অবিরাম সংকল্প ও আয়োজনের অজস্র আলেয়ার মতো’। 


তিনি তবু ছুটতে চান না, রবার্ট ফ্রস্টের অশ্বারোহীর মতো। বরং তার জীবনের হিসাব ঠিক উল্টো:


“আমি অতো তাড়াতাড়ি কোথাও যেতে চাই না; 

আমার জীবন যা চায় সেখানে হেঁটে হেঁটে পৌঁছুবার সময় আছে, 

পৌঁছে অনেকক্ষণ বসে অপেক্ষা করবার অবসর আছে। 

জীবনের বিবিধ অত্যাশ্চর্য সফলতার উত্তেজনা 

অন্য সবাই এসে বহন করুক: আমি প্রয়োজন বোধ করি না : 

আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ 

হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে

নক্ষত্রের নিচে।”


জীবনানন্দ কিংবা রবার্ট ফ্রস্টের অশ্বারোহী - কেউ ঘুমাতে যেতে চায় না এখানে। ‘মড়ার কবর ছেড়ে পৃথিবীর দিকে ছুটে গেল’ তাদের মন। নগরের রাস্তার আলোতে কিংবা তুষার শাদা বনের অন্ধকারে কেউ থেমে নেই। কেউ হাটছে নক্ষত্রের কণা বুকে নিয়ে, কেউ ছুটছে সংকল্পের খুরে ভর দিয়ে।

 

বুদ্ধিমান মানুষ জীবনের অবিরাম সংকল্প, মোটর কারের মত ছুটে চলা জীবনের বিবিধ অত্যাশ্চর্য সফলতা, অথবা নক্ষত্রের নিচে হাঁটতে থাকা এক পথিক জীবন - জানিনা কে বেশি সুন্দর। সবাই দাঁড়িয়ে আছে সবুজ সড়কে! 

-

সূত্র:

১. Stopping by Woods on a Snowy Evening, রবার্ট ফ্রস্ট

২. সাধ, আহমদ ছফা। আহমদ ছফার কবিতা সমগ্র, খান ব্রাদার্স অ্যান্ড কোম্পানি, ২০১০।

৩. উনিশশ চৌত্রিশের, জীবনানন্দ দাশ। প্রকাশিত-অপ্রকাশিত কবিতাসমগ্র, অবসর: ১৯৯৪/ ১৫শ মূদ্রণ: ২০১৬)। জীবন, ধূসর পাণ্ডুলিপি, জীবনাননন্দ দাশ। 

৪. http://www.kolkataonwheels.com/the-first-car/

--

রচনাকাল: ২৩-২৪ জানুয়ারি ২০১৮

Creative Commons License
This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial 4.0 International License.

Tuesday, November 28, 2017

গরমতেলের ফেরেস্তারা

সত্তর সত্তর হাজারে হাজারে ইনফিনিট সংখ্য়ক ফেরেস্তা আল্লার।
আমার ডান হাতে ছিল কাচা এক আলু পরোটা অার বা হাতে ধরে রেখে ছিলাম গরম তেল নাচতে থাকা কড়াইয়ের হাতল।
ফেরেস্তারা জপছিল আল্লার হাজার সেফত। মানুষের জানা ও কল্পনার ভেতরে বাইরে সত্তর হাজার সুপার কম্পুটারের সুপার ঢুপার মেমরি সমান গুনগান গুনগান গুনগান গুনগান .... এসমে আজম... আসমাউল হুসনা ... অনন্ত অসীম প্রেমময় সেফত।
অামি ভেবেছিলাম এই সন্ধ্য়ায় পেট থেকে মগজ পর্যন্ত জাগিয়ে তুলব গোলাপী শহর জয়পুরের অালু পরোটার স্বাদ ..
অথচ জানিনা পৃৃথিবীতে চাষাবাদ শুরু হওয়ার পর মান্না সালওয়ার বাবুর্চি ফেরেস্তারা এখন কি করে? কেউ কেউ নিশ্চয়ই এখনো বেকার।
কেয়ামতের ঢের দেরি। তাই কিছু নিশ্চয়ই আছেন ইস্রাফিলের এসিসট্যান্ট - কাজহীন। বিসিএস ব্য়াংক বিচারকর্ম কিংবা অারো যা লোভনীয় সরকারি চাকরির কম্পিটিশন - সেসবের প্রিপারেশন কোচিং কিছুই করেন না তারা। ঠায় দাঁড়িয়ে আছেন ইস্রাফিলের আশেপাশে ইস্রাফিলের বাঁশির সময় হাততালি দেয়ার জন্য। কেউ কেউ তবলায় দাদরা বাজাবেন। তারাও বেকার এখন।
ডান হাত থেকে পরোটা কড়াইতে নামতেই নাচতে থাকা তেল লাফিয়ে চড়ল অামার বাঁ হাতে।
অথচ আল্লার সেফতে কখনো ঘাটতি ছিল না বরং ঢের ঢের বেশি অাছে জমায়েত সত্তর সত্তর হাজারে হাজারে নুরানি পর্দার আড়ালে আড়ালে।
কেউ একজন আসতে পারত নবি ইসরাঈলের সন্তানদের মান্না সালওয়া বানানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে। কাজ করত শেফ এসিসটেন্ট, আলু পরোটা বানানোর সন্ধ্যায়। আমার সঙ্গী হয়েছিল ডিমের স্বচ্ছ শীতল অংশ যার মাঝখানে কুসুমের মত বসে ছিল গোলগাল ফেরেস্তা এক।
আমার বাঁহাতের জ্বলুনি-পুড়নির জন্য নেগলিজেন্সের দায় কিছুটা ঈশ্বরের ডান দিকে দাঁড়ানো ফেরেস্তাদের। এর চেয়ে উন্নত দায়ভাগ ভারতীয় হিন্দু আইনের কোন স্কুলেও নেই।
-
‘গরমতেলের ফেরেস্তারা’ একটি জ্বলন্ত দুঃখের দোহা। ২৬/১১/২০১৭-র সন্ধ্যা।

Tuesday, August 22, 2017

পেঁচা

 ~

ভেড়ার পা‌লের ‌মত অপ‌রি‌চিত দি‌ন শে‌ষে ছাতার ফু‌টোর মত বিষা‌দের দৃশ্য গুন‌তে গুন‌তে,
বা‌কি ছিল একটুকু কথা - মিনার্ভা দেবীর পেঁচা ডানা মে‌লবে সন্ধ্যার পর;
অথচ রাত্রি গভীর হ‌য়ে গেল।
প‌রিত্যক্ত শহ‌রের থমথ‌মে ভ‌য়ের মত জলপাইগা‌ছের ছায়ায় রাজহাঁস ঘু‌মি‌য়ে থা‌কে বীণার তারে কণ্ঠ রুদ্ধ ক‌রে।
...
চার‌দি‌কে শকুন কা‌ন্দে, ঠো‌টে ঠো‌টে মড়‌কের ঘ্রাণ।
...
(কেউ কেউ জন্মা‌বে নিশ্চয়ই -
আমাদের পূজা নিও, আর নিও রুকু ও সালাম।)
 ~
(21/8/2017)

Saturday, August 19, 2017

সরস্বতীর হাঁস

~সরস্বতীর হাঁস~



পৃথিবীতে এককালে একটাই পাখি ছিল,
উড়ত।
অথবা সব পাখিরাই উড়তো।

দুরন্ত এক পাখি একদিন ডুব দিল পানির ভিতর
গলা পর্যন্ত গিলে খেল হরেক মাছ
পেটের ওজনে নুয়ে গেল পাখা
একদিন পর ভাবল সে পাখি
আবার উড়বে সুনীল আকাশে

উড়ার মত হালকা হতে হতে পাখির আবার ক্ষুধা লেগে যায়
লোভী পেট আবারো টানল তাকে গভীর জলে
আবারো সে খেল অনেক অনেক...
শামুক ঝিনুক শ্যাওলা
যা কিছু হজম হয় পাকস্থলীর পাকে
আবার নাড়ীভুড়ি আটকালো পাখিটাকে পৃথিবীর মাটিতে
আরো একদিন অপেক্ষায় রইল সে
আরো একদিন
আরো একদিন
একে একে আরো অসংখ্য দিন

তারপর-
পাখিটা হাঁস হয়ে গেল।

পাখিরা পেটুক লোভী কিংবা অলস হয়ে গেলে হাঁস হয়ে যায়;

আর
মানুষেরা হয় বাঙালী মাস্টার।

৩ এপ্রিল ২০১৬।গ্রিন রোড

অংকন উইকিপিডিয়া থেকে সংগৃহীত।

Friday, June 9, 2017

আলাপ

~আলাপ~
শীতঘুম চেয়েছিলেম দারুন ফাগুনে?
চৈত্ মাস ছুঁতে গিয়ে পুড়ব আগুনে?
কি শখে আগুন ধরি, কি শখের পোড়!
নীরবে গড়ায় ধূসর অলৌকিক মোড়!

তবু কেন ঘুম আসে অন্তরের ভিতর?

: লো‌কেরা চন্দ্রে যাও, লৌ‌কিক মঙ্গলে ঘুরো
- ‘আমারে দে‌খিয়েন না বা‌ইক্যে বেসুরো’
‌: দেই‌খো, দেখানো লোকেরা হরেক তামাশা,
এক্কেরে যাদুতে বানায় কথার বাতাসা

কথায় মুখটা ভরাট-
কই যামুু, কোথায় ফালামু,
‌খেচর ক‌বির মতন রা‌ত্রি ভাঙামু?


১৭/৩/২০১৭
Photo - wfop.org

শেড অ্যাকুরিয়াম

মে ৮, ২০২২ শেড অ্যাকুরিয়াম গেলাম। সকালে উঠলাম দেরিতে। দায়ীন ভাইয়ের সাথে কথা বলেছিলাম গতকাল। তিনি ছিলেন শেড এর কাছাকাছি। তার আরেক বন্ধুর সাথে...