Sunday, August 15, 2021

রেডবার্ড ডায়েরি - অগাস্ট ১৪, ২০২১

 অনেকেই জানেন যে আমেরিকায় পড়ালেখার সেমিস্টার মোট তিনটা। ফল, স্প্রিং, আর সামার। সামারে সাধারণত ছুটি থাকে। প্রায় তিনমাস। মে মাসের মাঝামাঝি থেকে আগস্টের মাঝামাঝি। গরমকাল। লোকেরা ঘর থেকে বের হয়, ঘুরতে যায়। আমোদ করে।আর ফলে পড়ালেখার বছর শুরু হয়। মানে বেশিরভাগ ভর্তি হয় ফল সেমিস্টারে। আগস্টের মাঝামাঝি।

আমি এসছিলাম স্প্রিংয়ে। জানুয়ারির শুরুতে। নামে বসন্ত হলেও জমানো শীত ছিল তখন। অবশ্য সেমিস্টারের শেষ দিকে রঙিন সব ফুলের জমজমাট প্রদশর্নী হয়েছিল গাছে গাছে। ‘কি ভাল আমার লাগল’ সে কথা চিল্কায় গিয়ে বুদ্ধদেবও টের পান নাই।
বিদেশ আইসা বহুমানুষ যেমন বিভিন্ন অদৃশ্য ধাক্কা খায়, জানুয়ারি থেকে এপ্রিলে আমিও খেয়েছি বেশ। বাঙালির পোড়ামন, গৃহপালিত আবেগসমূহ, আর বাঙাল রাষ্ট্রের মানুষবিরোধী নীতি এবং শাসন - আমার পুরাতন দুঃখ। এগুলো আমাকে ছাড়ে নাই। যদিও আমি ভাবি এসবের অনেক কিছুই আমি কাটায়ে উঠতে পেরেছি, কিন্তু তারা মাঝে মাঝে জানান দিতে থাকে আমি পারি নাই। এসবের সাথে নতুন বিতিকিচ্ছিরি ব্যাপার যোগ হলো।
আমেরিকার ঘরবাড়ির সাথে অভ্যস্ত হতেই আমার সময় লাগলো। বহুদিন পর আবার স্টুডেন্ট হয়ে যাওয়াটা কিঞ্চিৎ চ্যালেঞ্জিং ছিল। পড়ানোর জন্য কতকিছু পড়া হয়ে যেত। আমার স্টুডেন্টদের কারনেই আমি অনেক কিছু পড়েছি, এছাড়া আমি সেল্প মোটিভেটেড হয়ে কাজ করতে পারি কম - এসব কাহিনী আবিষ্কার হলো।
গত সেমিস্টারে এসব উপলব্দির পাশাপাশি নতুন কিছু শিখলাম। এর মধ্যে সবচে ভাল লাগলো Zotero নামক একটা সফটওয়্যারের ব্যবহার শিখে। আর সমাজবিজ্ঞান আবিষ্কার হলো নতুন করে। বইপত্র বা রিসোর্চ পাওয়ার ক্ষেত্রে যে প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা এখানে পেলাম, শুধু তার জন্যই অনেক কষ্ট হজম করা যায়। (বাংলাদেশেও আগামী এক দশকে অনেক রিসোর্চ পাওয়া যাবে। তবে প্রাতিষ্ঠানিক সবলতা অর্জন করতে সময় লাগতে পারে আরো বেশি।)
সামারে কোর্স না নিলেও চলতো। যাতে মাস্টার্স একটু আগে শেষ করতে পারি তাই আমি একটা নিয়েছিলাম। কোর্সটা পছন্দ করে ফেলছি খুব। কোর্সের নাম আইন ও সমাজ ওরফে আইনের সমাজতত্ত্ব।
গরমকালের অলস দিন কালকেই শেষ। পরশুদিন থেকে দৌড়ের উপর থাকব মনে হচ্ছে। ফল সেমিস্টারের ক্লাস এবং কাজ শুরু। সেমিস্টারের শুরুতে ‘ভাল হয়ে যাব এবার’ টাইপের যে মোটিভেশন কাজ করে, তা সবাইরে জানান দিয়ে রাখলাম। এই সেমিস্টারে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক তত্ত্ব আর কর্পোরেট ক্রাইম পড়বো। খুবই এক্সাইটেড হয়ে যাচ্ছি কন্টেন্ট দেখে।

Thursday, August 5, 2021

মোরাল গুণ্ডামি ও হজরত ঈসা (আ.)

নাজারাতের মহাপুরুষ হযরত ঈসা রুহুল্লাহ যখন জেরুজালেমে গেলেন তখনকার ঘটনা। তখনকার নীতি-গুন্ডারা এক মহিলাকে মারার জন্য তাড়াচ্ছিল। মহিলার অপরাধ সে প্রস্টিটিউট। তার এই অনৈতিক কাজের জন্য তাকে পাথর ছুড়ে হত্যা করতে চায় সবাই। হযরত ঈসা রুহুল্লাহ গাছের ছায়ায় বসে ছিলেন। মহিলা দৌড়ে এসে সেখানে এক দেয়ালের কাছে আটকে গেল। যাওয়ার আর জায়গা নেই। উত্তেজিত নীতি-গুণ্ডারাও সেখানে এসে থামল। হযরত ঈসা রুহুল্লাহ কথা বলতে পারতেন চমৎকার। (যখনই তিনি গল্প বলতেন কেউ না শুনে পারত না। জুদাস ত ভাবছিলেন রোমান বিচারক আর ইহুদী রাব্বি সবাইকে তিনি কনভিন্সড করে ফেলতে পারবেন তার ঐশ্বরিক কথা এবং কথা বলার শক্তিতে।)

তিনি বুঝেছিলেন ঐ উত্তেজিত মব তথা মোরাল-গুণ্ডাদের বুঝানোর সুযোগ খুব কম। মোরালিটিতে উত্তেজিত হয়ে পড়লে লোকজন আর ওয়াজ নসিহতও ব্যাখ্যা শুনতে চায় না। হযরত ঈসা রুহুল্লাহ তাদের জানালেন, আচ্ছা তোমরা পাথর মারতে চাও মারবা। তাতে কোন সমস্যা নাই। যেহেতু এই মহিলা পাপ করেছে তাই তাকে শাস্তি পেতে হবে। মহিলা চমকে গেলেন। আশ্রয়ের জন্য যার কাছে গেলেন তিনি যদি এমন কথা বলেন তার চেয়ে দুর্দশার আর কি আছে!

নাজারাতের মহাপুরুষ হযরত ঈসা (আ.) তাদের জানালেন, তোমরা পাথর মারতে পারো। তবে তোমাদের মধ্যে যে কোনদিন পাপ করে নাই, সেই প্রথম পাথরটা মারো। উত্তেজিত জনতা কনফিউজড হয়ে হজরতের দিকে এবং একে অন্যের দিকে তাকালো। মেঘমন্দ্র স্বরে হজরত ঈসা (আ.) আবার বললেন, তোমাদের মধ্যে যে কোনদিন পাপ করে নাই, সেই প্রথম পাথরটা মারো। আরো একবার বলার পরও এমন কাউকে আবিষ্কার করা গেল না। দয়াল নবী হজরত ঈসা রুহুল্লাহর প্রতি বিরক্ত হয়ে জেরুজালেমের মোরাল-গুণ্ডারা ঐ জায়গা থেকে কেটে পড়লো।

আইন-শৃংখ্যলা বাহিনীর প্রতি আস্থার ঘাটতি ও পরীমনির ফেসবুক লাইভ

পরীমনিকে গ্রেপ্তারের আগে তিনি লাইভে এসেছেন। আগেও হয়রানির শিকার হওয়ার পর এসেছিলেন। তবে দুই ঘটনাতেই পরীমনির লাইভে আসার সিদ্ধান্ত একটি বার্তা দিচ্ছে। আইন-শৃংখ্যলা ও বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে আস্থাহীনতা শুধু বর্তমান রেজিমের বিরোধী মত ও সমালোচকদেরই নয়, বরং এই রেজিমের সমর্থক এবং বেনিফিশিয়ারিদের মধ্যেও রয়েছে।

পরীমনি যে জানিয়েছেন, যারা তার বাসায় এসেছিল তারা যথাযথভাবে তাদের পরিচয় দেননি। তাদের ইউনিফর্ম ছিল না। তিনি ভয় পেয়েছেন এবং নিশ্চিত হতে পারেননি যে যারা গিয়েছে তারা আইন-শৃংখ্যলা বাহিনীর লোক।

লাইভের শেষ দিকে এসে জানা গেল তার বাসার নিচে র‌্যাবের ও পুলিশের গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। দরজার সামনে যারা দাঁড়িয়ে ছিলেন তারা ইউনিফর্ম পরিহিত।

এই আস্থাহীনতা দূর করার জন্য আইন-শৃংখ্যলা বাহিনীর ভিতর থেকেই সমাধানের রাস্তা খুঁজতে হবে।



বাঙাল বিপুল উৎসাহে মোরাল গেইম খেলেছে। পরীমনির দুরাবস্থাকে পোয়েটিক জাস্টিস হিসেবে বিবেচনা করে ফেসবুকে হা হা করেছে। তাদের অনেকে নির্মলেন্দু গুণের সাথে একমত হওয়া সত্ত্বেও মোরাল কনফিউশনের ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছে।

এছাড়া সেলিব্রেটি না হলে লাইভে আসার প্রভাব কেমন হতো তা অন্য ঘটনা থেকে জানা যাবে।

Monday, July 26, 2021

আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ

অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ ভাল উপস্থিত বক্তৃতা দিতে পারেন, গল্প বলেন চমৎকার, আর মোটিভেশন দিতেও দক্ষ। অথচ এসব কারনে কখনো তার প্রতি মুগ্ধ হইনি। কারন যে বয়সে এসব আমাকে অবিভূত করতো সে বয়স পার করেই তাকে আমি চিনেছি। বিশ্বসাহিত্যকেন্দ্রের পুরাতন বিল্ডিংয়ের ছাদে একবার আড্ডায় উপস্থিত ছিলাম। তিনি কি বলেছেন তা আমার মনে নেই, তবে মুড়ি পিয়াজু চা খাওয়ার স্মৃতি মনে আছে।
জন্মদিন উপলক্ষ্যে লোকজন তার দোষত্রুটি প্রচার করছেন। এসবের মধ্যে দোষগুলা কি বুঝা মুশকিল। নির্বিচার গালাগাল করতে যাদের আগ্রহ তাদের একটা অংশ হচ্ছে ঘৃণাজীবী অ্যান্টিসেক্যুলার। আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ যেহেতু সেক্যুলার কাজেই তাকে নিন্দা করতে হবে। এবং তা করতে হবে কিছুটা ক্রিটিকাল বুদ্ধিজীবী সেজে। আসল মতলবটা লুকিয়ে রাখতে হবে। অবশ্য চেতনাজীবীরাও তাকে ছাড় দিতে নারাজ। মাঝে মাঝে বেফাস কথা বলে তাদের চেতনা ব্যবসার কিছু ক্ষেতি তিনি করেছেন।
আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদের মত অসংখ্য উদ্যমী সংগঠক এবং শিক্ষক আমাদের দরকার ছিল। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মতন সংগঠন তার সবচে বড় সাফল্য। বাঙালির সংগঠন করার যে দুর্বলতা তা তিনি বুঝতে পেরেছিলেন। (তার বই 'সংগঠন ও বাঙালি'তে তা লিখেছেন।) ভিতরের বাইরের বহু প্রতিরোধ কাটিয়ে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের মত সংগঠন তিনি তৈরি করেছেন। গত এক দশকে বাংলা ভাষায় যে পরিমাণ বই স্বল্পদামে এবং সুন্দর ছাপায় কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত হয়েছে সমালোচকরা সেসবের খবর রাখেন কিনা জানিনা। আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদকে নাকচ করে দেয়া সহজ নয়, গড়পড়তা বাঙালী বুদ্ধিজীবীর চাইতে বাড়তি উদ্যমটুকু তিনি কাজে লাগিয়েছেন। আমাদের ছোট গায়ের ছোট ছোট ঘরে থাকতে থাকতে আমাদের বিচার কেবলই আত্মঘাতী হয়ে উঠে।
অবশ্য চিরদিনের জন্য তার প্রতি মুগ্ধ হয়ে থাকা কারো কারো জ্ঞান স্বাস্থ্যের জন্য বাধা হয়ে থাকতে পারে। যে কারো কথাকে নির্বিচারে গ্রহণ করা বা মান্য করাও বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে। তবে এমন বাধা ভক্তের, গুরুর উপর সেই দায় চাপানোটা কতটা যুক্তিযুক্ত তা ভেবে দেখা উচিত।
যাহোক, আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদের সমালোচকদের লেখা দেখে ভানু বন্দোপাধ্যায়ের ‘চোখে আঙ্গুল দাদা’-র কথা মনে পড়ে গেল। আমাদের ‘চোখে আঙুল দাদা’রা কি গড়েছেন জীবনে?
-
জুলাই ২৫, ২০২১

Sunday, July 25, 2021

জীবন যন্ত্রণা

 জীবনের যন্ত্রনা বিষয়ে কিছুদিন আগে একখানা কৌতুক ধার করেছি। পাওনাদার সৈয়দ মুজতবা আলী। তার সাথে এক উকিলের পরকাল বেহেশত দোজখ ইত্যাদি বিষয়ে আলাপ হয়েছিল। কথায় কথায় উকিল জানাল যে - ’আমি বেহেশতে বিশ্বাস করি, দোজখে আমার বিশ্বাস নাই। মৃত্যুর পর সকলেই স্বর্গে যাবে।’

উকিলের ব্যাখ্যা হচ্ছে বেহেশতে কালাভুনার ডেগচি ঘুরে বেড়াবে, আস্ত রোস্ট গাছে ঝুলবে, শরাব মধু দুধ নদী হয়ে বইবে। আরাম আয়েশ ভোগবিলাসের কোন কমতি থাকবে না। চাহিবা মাত্র সকলই পাওয়া যাবে।এসব তো কল্পনা করা যায়, তাই বেহেশত আছে।
আর নরকের ব্যাপারটা কল্পনাতেও আসে না। এই দুনিয়ার চাইতেও খারাপ জায়গা হয় নাকি! কাজেই দোজখ নাই।
এই কৌতুক কিংবা বজ্রপাতের হাসাহাসিতে আপনারা জানেন, দুনিয়ার চাইতে যন্ত্রনাময় জায়গা আর নাই। জীবন যে শিটি ব্যাপার তা আপনারা জীবন দেখে অনেকেই বুঝে গেছেন। মোটিভেশন লেখকরা দিবালোকের ন্যায় ফকফকা করে লিখে রেখেছেন, এই শিটি জীবনে বুলশিট কাউশিট কোনটা গায়ে মাখবেন তা জাইন্যা আর মাইন্যা নিলেই কেল্লা ফতে। মানে জীবন যুদ্ধে জয় সুনিশ্চিত।
আপনারা এই কথা অন্তরে ঢুকায়ে নিতে পারেন, জীবনের যন্ত্রণা হইতে মানুষের নিস্তার নাই, আর মোহমুক্তির সাধনা করার জন্য ডুমুরতলাও (মানে ত্বীন ফলের গাছও) সহজে খুঁজে পাওয়া যায় না, কাজেই যন্ত্রণা বাছাই করার স্বাধীনতাই মানুষের আদি ও আসল স্বাধীনতা।
-
(বাংলা ভাষায় ’স্বাধীনতা ব্যবসায়’ কিতাবেও গ্রিক পুরাণ থেকে ধার করে এমন কথা বাজারে ছাড়া হয়েছে। স্বাধীনতা ব্যবসায় মূলত স্বাধীনতা বিরোধী কিতাব। লিবারেলিজমের ক্রিটিক এবং ক্রিটিকের তর্জমা। পেইন বাইছা লওয়ার নামই স্বাধীনতা ব্যবসা। বন্ধুদের বলে রাখি, উক্ত কিতাবের অসমআলোচনা লেখার ইচ্ছা এখনও যন্ত্রণা পর্যন্ত গড়ায় নাই।)

-
/ জুলাই ২৪, ২০২১

করোনার ভিন্ন প্রভাব

 করোনার কারনে কতকিছুই বদলে গিয়েছে। ঢাকায় ৮ মার্চ ২০২০ এ করোনা সনাক্তের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই জ্বর-কাশি-গলাব্যথা ইত্যাদি উপসর্গ আমাকে দেখা দিয়ে গেল।

তারপর ঘটনা ঘটতে থাকল বহু বিচিত্র উপায়ে। অনলাইনে এক সেমিস্টার পড়ালাম।
করোনায় অনেক পরিবর্তনের সাথে আমার জীবনে যে পরিবর্তন ঘটলো সে হচ্ছে শার্ট ইন করা ভুলে গিয়েছি। অনলাইনে মাস্টারি করে প্রায় দেড় বছর কাটিয়ে দিলেন যে শিক্ষকরা তাদের অনেকেই আমার মত প্যান্টের ভেতর শার্টের উদার পাশটা লুকানোর অভ্যাস হারায়ে ফেলছেন। বাঙালির লুঙ্গিতে যে আরাম, দীর্ঘ লক ডাউনের কালে অনেকেই তা ভবিষ্যতের পাওনাসহ পুষিয়ে নিয়েছেন।
স্টুডেন্টদের অনেকের শার্ট প্যান্ট পরার দরকার কমেছে। লুঙ্গি গেঞ্জিতে ভালই চালিয়ে নেয়া যাচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। পায়জামার উপর শার্ট পরে আমি যে দীর্ঘদিন ক্লাস নিলাম - এই কথা যাতে ভুলে না যাই, তাই লিখে রাখছি।
করোনার এই লুঙ্গিপ্যান্ট সংক্রান্ত প্রভাব বাজারেও পড়ার কথা। অনুমান করি গত দেড় বছরে ইয়াংদের ব্যবহারের জন্য লুঙ্গির বিক্রি বেড়েছে; প্যান্টের বিক্রি কমেছে।
ভিন্ন ধরনের জটিলতাও আছে। মূলত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুললে তা টের পাওয়া যাবে। মানে অনেকের প্যান্ট আর কোমড়ে বনিবনা হচ্ছে না; কারো কারো জামার সাথে চলছে মনোমালিন্য। কোভিড পরবর্তীতে বেসাইজ বাতিল হওয়া জামাকাপড়ের সদগতির উদ্যোগ কাজে লাগতে পারে।
অনেকের জুতার ভেতর মাকড়সা বা ইঁদুর বাস করার সম্ভাবনা আছে। পায়ের সাথে জুতার পরিচয় ঘটতে অনেকদিন লেগে যাবে আবার। যাহোক, প্যান্টের কোমড় না হয় কিছুটা বাড়ানো যাবে, বেল্টও হয়তো চালিয়ে নেয়া যাবে, তবে আপনারা প্রার্থনা করেন মাস্টাররা প্যান্ট পরা ভুলে গেলেও অন্তত জিপার আটকানোর অভ্যাসটা যেন না ভুলে। ধুতি লুঙ্গি পায়জামা ঘুরে প্যান্টে এখনো থিতু হয় নাই বাঙালি।
-
/ জুলাই ২৪, ২০২১

Saturday, July 10, 2021

হাড্ডি

পুড়ে যাওয়া ভবনের অনুমতি ছিলনা;
শিশু শ্রমের ব্যতিক্রমি অনুমতি আইনে ছিল,
শিশু জন্মানোর অনুমতি ছিল না অগো বাপ-মায়ের;
আগুনভরা কারখানায় জানালা বন্ধ আর সিঁড়ি না রাখার অনুমতি ছিল,
তবে আজরাঈলের অনুমতি ছিলনা জান কবজ করার;

যদিও আল্লাহর রহমতে বাইচা গেল শ খানেক মানুষ।
শয়তানের ওয়াসওয়াসায় মরল ৫১।
দেড়হাজারের বেশি লোকে বেহেশতের এই ছয়তলায় করত কাজ;
আলহামদুলিল্লাহ ফর এভরিথিং, ওভারটাইমে মাত্র দেড়-দুইশ ছিল আজ।

জুসের স্ট্র বসাইয়া খাইতেছিলাম তাগো রক্ত
শালার গরীবগুলা জন্মায় শুকনা হাড্ডি হাড্ডি শরীরে
রক্ত বের হয় খেঁজুর গাছ চাঁছার তৃতীয় দিনের মতো

তবে সুবিধা একটা আছে
গাদাগাদি কইরা হাসেমের ছয় খোপ উন্নয়ন স্বর্গে
হাজার দেড়েক রাখলেও তারা কর্ম করিয়া বাঁচে

চিকন দরজা আর সিঁড়ি দিয়াও অনায়াসে
দল বাইন্ধা তারা ঢুইকা পড়ে সুড়সুড়
যেন অল্প পানিতে পাতা চাইয়ে
ঝাকে ঝাকে পুটির পোনা খাইত মরনগুড়
মচমচা ভাজা পুটি, আহা, ৪৮টা পেলে
প্লেটে পেটে নাস্তা হতো
বর্ষার বৈকালে।

দিনটা বাঙালি হতো, খাঁটিও অল্পনা;
গতরে পুটির কম – এইসব গরীবের ছাও,
হুদাই উড়ায়ে দিল ফ্রাইড ফিশ কল্পনা।

আমি অভিজ্ঞ মানুষ। মানুষ গরু চিনি।
বলদার পো* দিয়া টাকা বেরয় না
মোবাইল কম্পানিতে কথা বেচা মধ্যবিত্তের সাথে
এমন সরল সত্যও জানি।

তবে আমি আরো জানি বাঁকা অংকটাও।
একেকটা পোড়া বলদের দাম মন্দ না
জ্যান্ত বলদ বছরে গোবর দেয় হাজার হাজার টেকার;
এইসব পোড়া গরীবের হাড্ডি দিয়া
দশটেকার দাঁত খিলানও বানানো যায় না।
সেই তাগো আবার ভণিতা আবদার:
‘আমার মায়ের হাড্ডিগুলা খুইজ্জা দেন স্যার’।

এই ছোট শুকনা হাড্ডি দিয়া করবি কি?
ডিসি সাহেব বলেছেন – বিইশ হাজা-া-র টাকা দেয়া হবে
লাশ প্রতি (মানে এক সেট হাড্ডির জন্য)
তোরা সেই টাকা দিয়া বলদের হাড্ডি কিনলে অনেক ওজনদার হাড্ডি পাবি,
সামনেই কোরবানী
এখনই খোঁজ রাখলে খোদার দয়ায় হাড্ডি কিনার সুযোগ মিলতে পারে নসিবে
যা, টাকা পাইলে ভারি ভারি হাড্ডি কিনিস।
অহন ঘ্যান ঘ্যান করিস না; দল বাইন্ধা ঘ্যান ঘ্যান করলে
তোদের হাড্ডি ভাইঙা যাবে মহামান্য আইনশৃংখ্যলার শিংয়ের গুতায়।

তা ছাড়া বিল্ডিংয়ে কি আমি আগুন দিছি?
গরীবের হাড্ডিতে ঠোকাঠুকি কইরাই এই আগুন লাগছে।

(আমি তাজ্জব হয়া যাই —
এই গরীবগুলার হাড্ডির ভিতর থেইকাও প্রেম বাইর হয়;
দাউ দাউ আগুনের ভিতর
প্রায় বন্ধ হইয়া যাওয়া শ্বাস লইয়াও
এক মাইয়া তার স্বামীরে ফোন কইরা জানাইছে – বিল্ডিংয়ে আগুন লাগছে।
লাইলি মজনু না
বেহুলা লখিন্দর না
রোমিও জুলিয়েট না
কাগজের আগুনে পুইড়া ছাই হয়া যায় এমন পলকা দেহ আর পাতলা হাড্ডির ভিতর কত ঢং
মৃত্যুর আগেও প্রিয় মানুষ খোঁজে!)

যাইহোক, সবকিছুকেই দেখতে হবে পজিটিবলি।
তাজরীন, নিমতলি, চকবাজার, বনানী, আর সব পোড়া বস্তি থেইকা উন্নয়ন পর্যন্ত আমাদের লেসন নিতে হবে।
কবি তাই বহু আগেই বলে গেছেন —
‘আমি জাহান্নামের আগুনে বসিয়া’
হাসি উন্নয়নের হাসি।

শেড অ্যাকুরিয়াম

মে ৮, ২০২২ শেড অ্যাকুরিয়াম গেলাম। সকালে উঠলাম দেরিতে। দায়ীন ভাইয়ের সাথে কথা বলেছিলাম গতকাল। তিনি ছিলেন শেড এর কাছাকাছি। তার আরেক বন্ধুর সাথে...