Monday, November 15, 2021

পীড়িত পিরিত

১.
ঝিম ধরা শীতে ক্লান্ত হয়ে যাওয়া মগজ আমার
বিভিন্ন ভয় কিংবা দুঃস্বপ্ন আঁকতে আঁকতে বিহ্বল হয়
ঘুম কিংবা স্বপ্ন দেখার জন্য আমার চোখেরা বন্ধ হয়ে থাকে
বন্ধ হয়ে থাকে মগজের কিছু কিছু ঘর
বাইরে কিংবা জানালায় সেসব মুহুর্তের আগে কিংবা পরে
দুনিয়া গুমট করে দেয়া এইসব মেঘলা দিনে
সূর্য হারিয়ে যায় প্রায়ই
মাঝে মাঝে কয়েকদিন থাকে পলাতক
যেন অনিশ্চিত আর সে আসবে কি না কো-ন-দি-ন

এই অবসাদভরা ঘুমের ভেতর স্বপ্ন হয়ে
তুমি ফিরে এলে

যে আমি অনেক কিছুই বলি না তোমাকে, চুপ করে থাকি শুধু ভিতরে ভিতরে ভাঙতে থাকি
সে আমি থামাতে পারি না আমাকে
স্বপ্নে আমি কথা কয়ে উঠি
– বহু জড়তা এবং ভোতা হয়ে যাওয়া পেন্সিলের স্বরে – বলি

ভালবাসি ..
সত্যিই,
এখনো অনেক ..
 
ভালবাসি ...

২.
হয়তো ভালবাসা কঠিন নয়
কত কত মানুষকেই পথে পথে ভালবাসলাম
কত কত পোকা
ঝড়ে ছিঁড়ে যাওয়া লতা
শিশিরে ঝরে পড়া ফুল
ঘাসে ঝুলে থাকা শিশিরবিন্দু
অদেখা কোন গায়কের কোন এক গানের একটি বিশেষ শব্দে কেঁপে ওঠা স্বর
সমুদ্র সাঁতরে বেড়ানো তিমি
আমাদের খেলনা সাইকেল
গোলাপ রঙের অলৌকিক খরগোশ
এবং
মানুষের হাতে খেলনা হয়ে যাওয়া মানুষকে

বিভিন্ন ক্ষণে মনে হয়েছে ভালবেসেছি ..

তবে যতটা কঠিন ভালবাসতে শুরু করা
তারচেয়ে কঠিন নিরন্তর ভালবেসে যাওয়া
আমাদের নাজুকতা, অস্থিরতা, আর মানুষ হবার সীমানায় –
যতটা যত্ন বুদ্ধি প্রজ্ঞা দরকার হয় ভালবেসে যেতে
সে পথ বহুগুন কঠিন সাধনার;

তবু সাধক হওয়ার সাধ আমার নিজের অক্ষমতাকে অস্বীকার করে,
দুঃসাহসী হই - 
ভালবাসি,
তোমাকে,

Wednesday, November 10, 2021

অনাগত

এক‌দিন থাকবেনা কেউ

প‌রি‌চিত কু‌টিল যারা
‌কিংবা অপ‌রি‌চিত শুভাকাংখী
এবং এইসব আমিরা

যারা সর্বদা নিরীহ নিরপেক্ষ নির্দোষ



/এপ্রিল ৪, ২০১৯


Sunday, October 3, 2021

টাইপিং: অভ্র ও বিজয়

গতমাসে বাংলা ভাষার জাতীয় কিবোর্ড (লে আউট) চিনতে পারলাম। এতদিন যে বিজয় কিবোর্ড ব্যবহার করেছি তার চেয়ে ৩-৪টি কি আলাদা। বাকি সব একই রকম। জনাব মোস্তাফা জব্বারের বিজয় লেআউট শুরুর দিকের কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়েছিল। এটি তাঁর সাফল্য। বাংলা ভাষার জন্য তার অবদান গুরুত্বপূর্ণ।

অবশ্য তার অবদান বাংলা ভাষার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ায় কিনা সেটা হয়তো বিজয় প্রস্তুত এবং বাজারজাতকারী কম্পানি হিসাব করে না। শুনেছি বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি অফিসে বিজয় (পুরনো কোডিং এবং লেআউট) ব্যবহার করা ম্যান্ডাটরি করা হয়েছিল; এমনটা কোন বিচারে করা হয়েছে তা জানিনা। তাছাড়া যদি ম্যান্ডাটরি করতেই হয়, তাহলে বাংলাদেশের জাতীয় লে আউট রেখে বিজয় কেন ম্যান্ডাটরি হবে?

যাহোক, বর্তমানে টাইপিংয়ে অন্য চ্যালেঞ্জ রয়েছে যা বিজয় কিবোর্ডের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব না। যেমন কিছু রিসেন্ট সফটওয়ারে বিজয় দিয়ে লেখা যায় না। কারন বিজয়ের কোডিং পুরনো আমলের; প্রায় অপ্রচলিত।

এই লম্বা ভূমিকা বললাম আরেকটি বিষয় জানানোর জন্য। অভ্রর জনপ্রিয়তা থেকে অনুমান করা যায় যে, অভ্র বাংলা টাইপের বড় উপকার করেছে। বাংলা লেখাকে সহজ করে দিয়েছে তার ফোনেটিক লেআউটের মাধ্যমে। তাতে লোকেরা অভ্র দিয়ে লিখতে পারেন খুব সহজে।

বিজয়ের মামলা বা হয়রানির পর অভ্র আর বিজয় লে আউট ব্যবহার করে না। তবে তাদের সফটওয়ারে বাংলাদেশের জাতীয় লে আউট রয়েছে। বিজয়ের লেআউটের সাথে জাতীয় (ন্যাশনাল) লেআউটের পার্থক্য মাত্র ৩-৪টি কি।
 
অভ্র তাদের সাম্প্রতিক ভার্সনে একটি অসাধারণ কাজ করেছে। আপনি একটি কিবোর্ড লেআউট নিজের মত করে তৈরি করে নিতে পারবেন। যে লেআউটগুলো আছে তাকে সামান্য মডিফাই করে কাজটি করতে পারবেন।

আমি প্রথমে বিজয় লেআউটে টাইপ করা শিখেছি। তাই বিজয় লেআউটে লিখতে অভ্যস্ত। গতবছর একটা সফটওয়্যারে বিজয় কাজ করছিল না। সেই সমস্যা থেকে বের হওয়ার জন্য খুঁজতে খুঁজতে গত মাসে এই চমৎকার সমাধান আবিষ্কার করলাম।

সপ্তাহখানে কষ্ট করে ৩-৪টি কি শিখে নিলে জাতীয় লেআউট শেখা হয়ে যাবে। যদিও বহুদিনের অভ্যাস আনলার্ন করা কঠিন। এছাড়া সামান্য মডিফাই করে জাতীয় লেআউটকে বিজয়ের মত বানানো যাবে। (৫ থেকে ১০ মিনিটের কাজ। এক্সপার্ট হলে আরো কম সময় লাগবে।)

অভ্র টপবারে সেটিংস থেকে কিবোর্ড লেআউট এডিটর অপশন ব্যবহার করে কাজটি করতে হবে। এবং বিজয় শুধুমাত্র পুরাতন ডকুমেন্ট পড়ার জন্য ব্যাকআপ হিসেবে থাকবে।

(ইংরেজি QWERTY লেআউট নিয়ে এমন জটিলতা নেই। এর সম্ভাব্য কারন হয়তো আমাদের বাংলা ছাপাখানার চেয়ে বাংলা টাইপিংয়ের কয়েকশ বছরের ধীর গতি। যেহেতু বলপয়েন্ট আবিষ্কার না হলে আমাদের অনেকেই আজো কলম দেখতে পেতাম না, তাই টাইপরাইটার দেখা দুর্লভ ব্যাপার; টাইপরাইটারে লেখা আরো দুর্লভ। অবশ্য এসব জিইয়ে রাখা ব্যারাম কিনা আমি জানিনা।)

দারিদ্র্য ও চৈতন্য

অমর্ত্য ইউনুস আবেদের ভাষায় যে আর্থিক জীবনের নাম দারিদ্র্য তা বুঝতে বুঝতে আমার জীবনের অনেকগুরুত্বপূর্ণ সময় পার হয়ে গিয়েছে। আমার মনে হয় দারিদ্র্যের অভিজ্ঞতায় সৎ মানুষের মনে অর্থের আকাঙ্খা জন্মায় না। অন্তত বাঙালি মোসলমানের সৎ-অসৎ বিচারের যে মানদণ্ড তাতে দারিদ্র্যের দোর্দণ্ড প্রতাপ। আমাদের সততা দারিদ্র্যের সাথে সমার্থক হয়ে যাওয়াটাই আমাদের চেতনা ও মূল্যবোধের ঘরে বড় ধরনের কেলেংকারি। আমাদের অর্থের আকাংখ্যা তাই হয়ে ওঠে অসৎ, প্রাচুর্য মাত্রই হয়ে উঠে অসুখ এবং অভিসম্পাৎ, আর দারিদ্র্য হয় মহৎ।

(চৈতন্যের এই গোঁজামিল বুঝতে পারার পরেও কাটিয়ে উঠতে পারার ক্ষমতা সকলের হয় না। অনেকেই এই দ্বিধা কাটাতেই পারে না।)

দারিদ্র্য মোকাবেলার যেসব উদ্যোগ আমাদের আছে, সেখানে এই অর্থবিত্ত সম্পর্কিত চেতনা পরিবর্তনের কৌশল সম্ভবত থাকে না। পুঁজিবাদী কৌশলের সাথে বাংলার দারিদ্র্য মোকাবেলার চিন্তা – দান-খয়রাত-সওয়াব ও পরকালের মধ্যে একত্রিত হয়েছে। সম্ভবত পশ্চিমে পুঁজির সাথে সমাজের এবং চেতনার যে সম্পর্ক সেখানে এই ধরনের কেলেংকারি নেই।

অর্থকে সাফল্যের মানদণ্ড হিসেবে যদি সমাজে বিবেচনা করা হয়, তবে সেই মানদণ্ড সম্পর্কে স্পষ্টতা রাখতে হবে। তাকে যত ট্রান্সফারেন্ট রাখা যায় ততই কল্যান। তাকে মানদণ্ড না মানার অজুহাতে দারিদ্র্যর মত অবিচারকে টিকিয়ে রাখা বা উপেক্ষা করা আরো ভয়ানক শয়তানি।

সম্পদ জমানো, সম্পদ গড়া – পুঁজির বিচারে এসব সমস্যা নয়। তবে লিবারেল ব্যবস্থার মধ্যে প্রতারণাকে সমস্যা হিসেবেই চিহ্নিত করা হয়। অন্যকে ঠকিয়ে সম্পদ অর্জন করাকে লিবারেলিজমের সাধারণ পরিণতি বিবেচনা করে লিবারেলিজম নামক তত্ত্বের বিরোধিতা দিনশেষে প্রতারকদেরই সুবিধা দেয়।

(অর্থনীতি কম বুঝি। তার ইতিহাস বুঝি আরো কম।) জমিদারি যতদিন আইনত বৈধ ছিল ততদিন তার ক্ষতিকে স্পষ্টভাবে মোকাবেলা করাও সহজ ছিল। কিন্তু জমিদারির ক্ষতি আর জমিদারি বিরোধিতা দুইটা এক হয়ে যাওয়ার মধ্যেই যে দারিদ্র্য মহান টাইপের ঘোর বা চেতনার ঘরে কেলেংকারি তৈরি হলো তা থেকে বাঙালকে মুক্ত করা না গেলে দারিদ্র্য দূর করা সহজ নয়। এই সমস্যা শেষমেশ চৈতন্যের। অর্থ যে ভাল, সে কথা আমাদের বুঝা দরকার। তাহলে জাতীয় অর্থ-সম্পদের হিসাবটা আরো স্বচ্ছ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

(পুনশ্চঃ - নজরুলের দারিদ্র্য কবিতাকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। সম্পূর্ণ কবিতাকে না পড়ে তার অংশ থেকে দারিদ্র্যকে মহান করা নজরুলের সাথে টিটকারি। বোকামি করে ছাড় না দিলে এমন ব্যাখ্যাকে সাহিত্যের শয়তানি ব্যাখ্যা বলা যায়। দারিদ্র্য কাউকে মহৎ করে না। মহৎ লোকেরা মাঝে মাঝে দরিদ্র হয়ে জন্মায়। মূলত যে জীবন জীবনের প্রাচুর্যকে বুঝতে পারে তাকে আর্থিক বা অন্যকোন প্রাচুর্য দিয়ে আর মাপা যায় না, আটকানো যায় না। দারিদ্র্য অভিশাপ; দারিদ্র্য দূর না করার চেষ্টা আরো বড় অভিশাপ।)

Monday, September 20, 2021

ডিজিটাল বাংলাদেশ - লিটারেসি

 ২০১৯ সালে বাংলাদেশের পরিবেশ আইনের শিক্ষকদের সাথে কাঠমাণ্ডুতে একটি প্রশিক্ষণে অংশ নেয়ার সুযোগ হয়েছিল আমার। ট্রেইন দ্যা ট্রেইনার্স প্রোগ্রাম ছিল তা। শিক্ষকদের শিখানোর কর্মশালা। পরিবেশ আইন বিষয়ে বাংলাদেশের দুইজন বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন সে কর্মশালায়। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক -এর অর্থায়নে এবং তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ কর্মশালায় টিচার্স ট্রেনিংয়ের দুজন বিশেষজ্ঞ এসেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে।

যাহোক, কর্মশালায় যে বিষয়গুলো শেখানো হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ব্লেন্ডেড লার্নিং বা হাইব্রিড ক্লাসরুম। এতদিনের প্রচলিত মেথডের সাথে বর্তমান ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে এসব পদ্ধতির মূল কথা। পাঁচ দিনের সেই ওয়ার্কশপে একটা প্রশ্নের উত্তর আমি খুঁজে পাইনি। বাংলাদেশের মত ডিজিটাল বিভাজনের দেশে এমন শিক্ষার সুফল অল্প কিছু লোক পাবে। এই প্রশ্ন আমাকে বিচলিত করেছিল যে, বাংলাদেশের মত দেশে যেখানে এজুকেশন ম্যানেজমেন্ট সহ আরো অসংখ্য দরকারি সফটওয়্যার তৈরির সক্ষমতা নেই, সেখানে এমন ধরনের ব্লেন্ডেড শিক্ষায় আমাদের অন্যদেশ থেকে এই ডিজিটাল সেবাগুলো কিনতে হবে। যেমন গুগল মিটে ক্লাস নিতে চাইলে তার সকল সুবিধা পাওয়ার জন্য গুগলকে ভাল পরিমাণ পয়সা দিতে হবে। একই সাথে জুম ব্যবহারের জন্য জুম কম্পানিকেও দিতে হবে। বাংলাদেশের ইউজিসি যা করেছে তা হলো জুমের কাছ থেকে সার্ভিস কিনে তা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে দিয়েছে। ইউজিসির নিয়ন্ত্রাধীন যে বিডিরেন নামক স্থানীয় নেটওয়ার্ক রয়েছে তা একটি কাজের উদ্যোগ। একটি শক্তিশালী লোকাল/ন্যাশনাল সার্ভার থাকা রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতার একটি ডিজিটাল চিহ্ন। কিন্তু সফটওয়্যার ইত্যাদিতে বাংলাদেশের গ্লোবালি কম্পিটিটিব দক্ষতা নেই। বিশেষ করে এজুকেশন ম্যানেজমেন্টের জন্য। হয়তো দরকারও নেই। কারন পৃথিবীর বহু দেশেরই এই ধরনের সক্ষমতা অভাব রয়েছে।
বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ শুধু এই ধরনের সফটওয়্যার তৈরির ক্ষেত্রেই নয়। বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বৈষম্য। ইংরেজিতে ডিজিটাল ডিভাইড নামক পরিভাষার মাধ্যমে এই সমস্যাকে চিহ্নিত করা হয়। আমাদের প্রযুক্তির সুবিধা সবাই সমানভাবে পায় না। সমানভাবে পাওয়া হয়তো সম্ভবও নয়। কিন্তু ব্যাপারটা এতো বেশি অসমান বা অসাম্যের যে তাতে একটা জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যত বর্তমান নানারকম বিপর্যয়ের মধ্যে ঘুরপাক খেতে থাকে।
ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ (এনজিও ভাষায় যাকে এক্সেস বা অভিগম্যতা হিসেবে অনুবাদ করা হয়) তা কম থাকা বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জের বাড়তি আরেক ধাপ হচ্ছে প্রযুক্তি ব্যবহারে অক্ষমতা। আমরা যাকে সহজ ভাষায় বলতে পারি ডিজিটাল লিটারেসির অভাব।
ইউনেস্কোর প্রভাবে আমরা লিটারেসি মাপি। যদিও বিদ্যাবুদ্ধি মাপার সুযোগ বা যন্ত্রপাতি খুব একটা নেই। লিটারেসি মেপে আমরা খুবই আনন্দিত। ‘আনন্দ কি আনন্দ, এসে গেছে কোকা কোলা’ – আনন্দের চোটে আমরা গানের পরের লাইন আর গাই না – ‘ঋণের দায়ে সবই গেছে, বাকি আছে কাপড় খোলা’। প্রায় ষাট শতাংশ অক্ষরজ্ঞান তথা লিটারেসি মেপে আমরা জরুরি হিসাবের খোঁজ রাখি না। আমাদের ‘নিউমারেসি’ বা সংখ্যাজ্ঞানের যে ভয়ংকর দুর্বলতা রয়েছে তাতে করে সংখ্যাজ্ঞানের চেয়ে আমাদের সংখ্যাজ্যোতিষ বা নিউমারোলজিতে ঈমান এবং ভরসা পাক্কা। সংখ্যাজ্ঞানের বদলে সংখ্যাভীতি আমাদের চিরায়ত জাতীয় মহামারী। এসবের সাথে দুনিয়ার ডিজিটাল ওলটপালটের সাথে আমাদের ডিজিটাল লিটারেসির দুর্বল অবস্থা যোগ হয়েছে। মরার উপর খাড়ার ঘা।
ডিজিটাল লিটারেসি বাড়ানোর জন্য সিরিয়াস রাজনৈতিক উদ্যোগ লাগবে। ২০০৮ সালে নির্বাচিত রেজিমের ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পরবর্তী রেজিমগুলোতে যে ডিজিটাল প্রতারণায় পরিণত হয়েছে তাতে সরকারি উদ্যোগে বাংলাদেশের এই চ্যালেঞ্জের সমাধান হবে না। ডিজিটাল লিটারেসির জন্য সামাজিক এবং রাজনৈতিক উদ্যোগ দরকার প্রচুর পরিমাণে। নয়তো বাংলাদেশের বহু ধরনের সমস্যা তৈরি হবে। আক্রান্ত এই সমাজ আরও ক্ষতিগ্রস্থ হতে থাকবে।
মহামারীর শুরুতে যখন অনলাইনে ক্লাস নেয়ার ব্যাপারে আলোচনা হচ্ছিল তখন আশা করেছিলাম পরীক্ষা পদ্ধতিতে হাতে লেখার বদলে টাইপ করার ব্যবস্থা চালু হবে। আমাদের একাডেমিক কমিটিতে এমন প্রস্তাবও দিয়েছি। তবে শেষ পর্যন্ত হাতে লিখে স্ক্যান করে খাতা জমা দেয়ার নিয়ম ঠিক করা হলো। এতে স্টুডেন্টদের কম্পিউটারে টাইপিং শেখার মোমেন্টামটা মিসে হয়ে গেল। টাইপ করে লেখার নিয়ম রাখলে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ হতো যেগুলো সমাধান করার সক্ষমতা বা ইচ্ছা প্রতিষ্ঠানগুলোর কিংবা শিক্ষার্থীদের ছিল না। যেমন অনেকের কম্পিউটার নেই; বেশিরভাগ স্মার্ট ফোনে ক্লাস করতে পারলেও টাইপ করার মত কমফোর্টেবল কোন ডিভাইস কেনার সক্ষমতা রাখে না। বিশেষ করে মহামারীর আর্থিক প্রভাবের কারনে। যদিও মোবাইলেও কিবোর্ড কানেক্ট করে লেখা যায়, তবে অনেকের জন্যই তা সুবিধাজনক নয়। এসব বাস্তব চ্যালেঞ্জের কারনেই আমরা ডিজিটাল লিটারেসির একটা গুরুত্বপূর্ণ মোমেন্টাম মিস করেছি। এই ডিভাইসের সমস্যা না থাকলে স্টুডেন্টরা টাইপ করে উত্তর লিখতে পারতো। তারা যে প্রশ্নগুলোর উত্তর হাতে লিখে দিচ্ছে তা তারা টাইপ করে জমা দিতো। এর ফলে তাদের টাইপিংটা শেখা হয়ে যেত এক সেমিস্টারেই।
#ডিজিটাল_বাংলাদেশ - লিটারেসি
#Digital_Bangladesh; #postpandemic_education

Saturday, September 11, 2021

 আমার রুমে আমরা উল্লেখযোগ্য দুজন থাকি।

পোকামাকড়রা থাকে হয়তো; লুকিয়ে পালিয়ে বিনা সমঝোতায়।
দুজনের একজন ছোট। কাপের ভিতর দাঁড়িয়ে থাকে সে। আমি চেয়ারে বসি, বিছানায় সটান হই, সোজা হয়ে হাঁটি: তার এসবের দরকার হয় না।
আমি দিনে আড়াই থেকে সাড়ে তিনবার খাই। কয়েকবার পানি গিলি, অন্তত এক ঢোক রোদ, এক আধবার খোলা বাতাস।
আমার ছোট কামড়ার অপর সদস্য যে, সরাসরি রোদে যাওয়া তার বারণ; মাঝে মাঝে জানালার খোলা বাতাস সে পায়; আর সপ্তাহে পাথর ভরা কাপে একটু পানি।
একটু একটু করে বেড়ে উঠছে সে। প্রাণের গতি, বেড়ে ওঠার তৃষ্ণা, সুন্দর হবার চেষ্টা - আমি দেখি। দেখে দেখে শিখি। এ শেখায় আনন্দ অফুরান।
বেড়ে ওঠার অপ্রতিরোধ্য এক স্বভাব এই প্রাণের।
ও একটি ছোট গাছ।
ওর নাম রাখা যেতে পারে ’ঞ’। নামটা একটু কঠিন তবে ছোট। এর চেয়ে বড় নামের ভার তাকে দিতে চাই না। যদিও ছোট নাম হিসেবে ’জ’ নামটা ওকে দিতে ইচ্ছে করে, তবে জ নামে আমার এক যন্ত্রবন্ধু আছে; তাই সে নাম তাকে দেয়া গেল না।
-
বন্ধু ঞ,
তোমার ছোট্ট শেকড় থেকে আমায় একটু স্থিরতা দিও।

Tuesday, September 7, 2021

চুল থেকে চম্পু

 হাঁটতে বের হলাম অনেকদিন পর। একটা নামকরা ওষুধের দোকান (সিভিএস) থেকে মাঝে মাঝে ডিম দুধ রুটি কিনি। আজকেও কিনলাম। পলিথিনের সাথে দোকানি মেয়ের চুলও চলে এসেছে। অফুরন্ত অবসর সময় থাকলে এই চুল কোন আগ্রহী যুবককে দিতে পারতাম। তাবিজ করার জন্য।

একবার নানুবাড়ি থেকে ফেরার পথে সমবয়সী এক কিশোরের সাথে দেখা হয়েছিল আমার। সেভেন এইটের ঘটনা। উথাল পাতাল প্রেমে পড়লে মানুষের ভেতর যে ছটফটানি আর অস্থিরতা কাজ করে তার চলছি সেরকম দশা। সে আমাকে জানালো শহর থেকে আসা এক আত্মীয়ের প্রেমে পড়েছে সে। পরস্পর যে এর মধ্যেই লম্বা চিঠি আদান প্রদান করেছে তাও জানাল আমাকে। তারপর দেখালো সে সেই মেয়ের চুল নিয়ে এসেছে। দেশলাইয়ের বক্সে রুলটানা বাংলাখাতার ছেড়া পাতায় মোড়ানো। তাবিজ করবে সে তাকে। অই একটা বা দুইটা চুলের মধ্যে তার জীবন যেভাবে ঝুলে আছে তাতে আর জানতে চাইলাম না চুল কি ছিড়ে এনেছে নাকি ছেড়া চুল কুড়িয়ে এনেছে। কে জানে, চুলের জন্য চিরুনির দাঁতা বাঁকা করে রেখেছিল কিনা! আমার সাথে ছেলেটার দেখা হলো লঞ্চেই। মোটামুটি এক ঘন্টার পথ। এরমধ্যেই সে আমাকে বলতে থাকলো তার প্রেমের কথা। লঞ্চ থেকে নেমে নদীর পাড়ে বসে দীর্ঘসময় ধরে তার কথা শুনলাম। গল্প বলতে পারা লোক সহজে মিলে না জীবনে। প্রেমে পড়লে মানুষের গল্পের ক্ষমতা বেড়ে যায় হয়তো।
মানুষের আদিগল্পটা প্রেমেরই মনে হয় আমার কাছে। স্বর্গ থেকে দুনিয়ায় আসার পর প্রথম মানব আর প্রথম মানবীর কান্না কি সবটাই ক্ষমা প্রার্থনার? নাকি প্রেম ছিল পরস্পরের? বাবা আদম আর বিবি হাওয়ার কাছে জানতে চাই – আপনারা কি প্রেমের জন্য কাঁদেন নাই? যদি প্রেম না থাকলো তবে কিসের আরাফা? এখনো যারা সেখানে জমায়েত হন তারা কি মনে রাখেন, সেখানে প্রথম পুরুষ এবং প্রথম নারীর দেখা হয়েছিল! স্বর্গ থেকে বিচ্ছেদের পর সেই তাদের প্রথম দেখা! ‘মিলন হবে কতদিনে? আমার মনের মানুষের সনে।’ – এইতো ইয়াওমে আরাফার গান।
এসব কথা ভাবতে ভাবতে ঘুরপথে ফিরছিলাম আম। পথে একটা মদের দোকানের সামনে দেখলাম চারজন যুবক। কাছে গিয়ে বুঝলাম তারা একটা মেশিনের সাথে লেনদেনের চেষ্টা করছে। এক ডলারের নোট দিয়ে মেশিনের কাছে কোক পেপসি চাইছে, আর মেশিন তাদের রিজেক্ট করছে। মেশিন জানাচ্ছে তুমি যেই সফট ড্রিংক খাইতে চাও, তা বিক্রি হয়ে গেছে। দোকানের ভিতরে গেলে সহজেই বিভিন্ন প্রজাতির অ্যালকোহল, সোডা, এমনকি ভাজাপোড়ার প্যাকেট পাওয়া যাবে। এশীয় যুবকরা অবশ্য মেশিনের কাছে ছাড়া কিনবে না। আমাকে তাদের কাছে দাঁড়াতে দেখে তারা খানিকটা বিব্রত কিংবা বিরক্ত হয়েছে হয়তো। আমি দোকানের ভিতরে গেলাম। ফিরে এসে দেখি তারা নেই। বসার যে বেঞ্চ ছিল তা আসমানের দিকে তাকায়ে হাহাকার করছে আর সফটড্রিংকের মেশিনটা হা হা করে হাসছে। কেমন চম্পু দিলাম, দেখলে?! কে যে কাকে চম্পু দিল, তাই বুঝতে পারিছ না।

শেড অ্যাকুরিয়াম

মে ৮, ২০২২ শেড অ্যাকুরিয়াম গেলাম। সকালে উঠলাম দেরিতে। দায়ীন ভাইয়ের সাথে কথা বলেছিলাম গতকাল। তিনি ছিলেন শেড এর কাছাকাছি। তার আরেক বন্ধুর সাথে...