Wednesday, April 13, 2022

বাংলাদেশে বিজ্ঞান শিক্ষা


বাংলাদেশে বিজ্ঞানপ্রেমীদের কলা কিংবা মানববিদ্যায় পড়াশোনা নিয়ে একটা জোরালো মশকরা করা যাচ্ছে। স্যাটায়ার বা ঠাট্টা-বিদ্রুপ সমাজের স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। তবে ঠাট্টা একতরফা জমে না। সেটা বুলিং হয়ে যেতে পারে।

যেহেতু কলা আর মানববিদ্যা পড়ুয়া বিজ্ঞানপ্রেমীরা বাঙ্গালি মোসলমানের অনেক আলগা গিট্টু দেখিয়ে দিয়েছে এতদিন, তাই এখন বিজ্ঞানপ্রেমীদের আর্টস ব্যাকগ্রাউন্ডে একটু চিল করা থামছে না।

একজন বিজ্ঞানপ্রেমী হিসেবে আমি জিজ্ঞেস করবো না তৌহিদি জনতা ইসলামিক স্টাডিজ বা থিওলজি কোন ভার্সিটিতে পড়েছে। সে প্রশ্ন বাঙালের সিক্রেট লজিকবুক অনুযায়ী মচৎকার সব অনুসিদ্ধান্ত হাজির করতে পারে।

আমি বরং নিজের দুঃখের কথা বলি। আমি যে মাদরাসায় ম্যাট্রিক পর্যন্ত পড়েছি সে মাদরাসায় বিজ্ঞান বিভাগ ছিল না। ক্লাস এইট পর্যন্ত আমাদের সাধারণ বিজ্ঞান পাঠ্য ছিল। নাইনে ওঠার পর সমাজ বিজ্ঞান বইয়ে বিজ্ঞান শব্দটা ছিল; তবে আমাদেরকে যেসব শিক্ষক পড়িয়েছেন তারা বইয়ের লেখা পড়ানোর জন্য পড়াতেন, আর তাকে নাকচ করে দিতেন ধর্মীয় রীতি ও বিশ্বাসের দোহাই মেনে।

আমার আগ্রহ ছিল বিজ্ঞানে পড়ার। কিন্তু মাদরাসায় তা ছিল না বলে পড়ার সুযোগ হয়নি। এছাড়া বিজ্ঞান বিভাগে পড়ার জন্য মাদরাসা চেইঞ্জ করে স্কুলে পড়াও আমার জন্য পারিবারিক, আর্থিক, এবং ধর্মীয় কারনে অসম্ভব ছিল।

আমি ছাত্র হিসেবে ততটা খারাপ ছিলাম না যে বিজ্ঞান বিভাগে পড়লে পাশ করতে পারতাম না। তবুও আমার মত বহু স্টুডেন্ট বিজ্ঞান পড়ার সুযোগ পায় না। এর কারন কি?

বাংলাদেশে খুবই অল্প সংখ্যক মাদরাসায় ইন্টার পর্যন্ত বিজ্ঞান বিভাগ রয়েছে। আর গ্রামের স্কুলগুলোকে বিজ্ঞানের শিক্ষক পাওয়া অথবা ভাল শিক্ষক পাওয়া এখনো কঠিন। স্কুল গুলোতে প্রাকটিক্যাল করার জন্য পর্যাপ্ত ল্যাব কি আছে? এছাড়া বিজ্ঞান বিভাগে পড়া তুলনামূলক ব্যয়বহুল যা মেটানোর সামর্থ সকলের থাকে না। আর সেই খরচ কমিয়ে আনার সামাজিক চেষ্টাও নেই। সামাজিক উদ্যোগগুলো অনেকক্ষেত্রেই যতটা পরকালমুখী ততটা ইহকালের কল্যানের দিকে অমনযোগী। (যদিও বাঙালি মোসলমান দোয়া পুরোটাই করে – রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাতাও অফিল আখিরাতি হাসানাহ।) অনেক বাবা মা ই তো বোঝেন না তাদের সন্তানরা কি পড়ছে, কোন বিষয় পড়লে ভাল হবে। আবার অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরাই ঠিক করেন কারা কোন বিভাগে ভর্তি হবে।

এসব ছাড়াও আমাদের দেশের বিজ্ঞান পড়া লোকেরা যতটা অন্য দেশে চলে যান – কলা ও মানববিদ্যার লোকেরা ততটা যান না। কারন বিজ্ঞান পড়ুয়াদের দক্ষতা পৃথিবীর যে কোন প্রান্তেই কাজে লাগছে। তাই তার সুযোগ তাকে অন্য দেশে নিয়ে যায়। মানববিদ্যার লোকেদের বিজ্ঞান প্রীতি নিয়ে সমালোচনা করা হয় অথচ অভিজিতের মত বিজ্ঞান জানা বিজ্ঞান লেখক যখন লিখে তখন সমাজ তাকে কুপিয়ে মারে। কলা আর মানববিদ্যার লোকেরা বিজ্ঞান নিয়ে কথা বললে তার এক্সপার্টাইজ নিয়ে প্রশ্ন তোলা সহজ, তাই সেই প্রশ্ন তুলছেন লোকেরা। একইভাবে বিজ্ঞান ব্যাকগ্রাউন্ডের লোকেরা যদি অনেকের ফিলিং ট্রুথ-কে সন্তষ্ট করতে না পারে অথবা অস্বস্তিতে ফেলে তখন তাকেও নাকচ করার জন্য অন্য অজুহাত খুঁজতে হবে। যেহেতু নাকচ করাই মূল উদ্দেশ্য তাই যেকোন অজুহাতে নাকচ করতে হবে।

অবশ্য সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে যে অ্যাডভান্সমেন্ট হয়েছে তা থেকেও বাঙাল বঞ্চিত। এত সরল সমাজ সবকিছুকে ঠাট্টা করে উড়ায়ে দিতে চায়। খারাপ না। খোদা বাঙালকে ইহকালীন আর পরকালীন কল্যান দেয়ার বদলে ইহকালেও মজা দিবে পরকালেও মজা দিবে। প্রার্থনা করি হে খোদা, তুমি বাঙালকে মজা দিচ্ছ দাও, সাথে বিজ্ঞানও দিও।

এপ্রিল ১২, ২০২২

Tuesday, April 12, 2022

ধর্মকে বিজ্ঞান দিয়ে প্রমান বা অপ্রমান করার দরকার নেই

 ধর্মকে বিজ্ঞান দিয়ে প্রমান বা অপ্রমান করা অহেতুক জটিলতা তৈরি করে।

যেমন চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী রোজা রাখার উপকারিতা বর্ণনা করা। একজন চিকিৎসক কাউকে যদি রোজা রাখতে বলেন তবে তার বর্তমান স্বাস্থ্যের অবস্থা বিচার করে সেই পরামর্শ দিবেন। তারপর তা হতে পারে বিভিন্ন মেয়াদে। রমজানের এক মাস মিলিয়েই কারো সেই প্রেসক্রিপশনের রোজা রাখতে হবে তেমন সম্ভাবনা কম। প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী রোজা তখন ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হয়ে যাবে। এখানেই জটিলতা। তাছাড়া রোজা রাখার ধর্মীয় নিয়ম সূর্যোদয় সূর্যাস্তের সাথে সম্পৃক্ত। স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য ডাক্তারি নিয়মের রোজা ঘন্টা মেপে হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি; দিনের বড় ছোটর বিষয় নয়। কাজেই এসব ধর্মীয় চর্চাকে বিজ্ঞান দিয়ে ভ্যালিডেশন করা ফ্যান্সি এবং অ্যাট্রাক্টিব হলেও বিপদজনক।
একজন বিজ্ঞানী তার চর্চা এবং আবিষ্কারের ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে অনুপ্রাণিত হতে পারেন। তিনি ধর্মীয় প্রয়োজন বা বিশ্বাস দ্বারাও অনুপ্রাণিত হতে পারেন। কিন্তু তাতে বিজ্ঞান ধর্ম হয়ে যায় না, কিংবা ধর্ম বিজ্ঞান হয়ে যায় না। যদিও একজন বিজ্ঞানীর ব্যক্তিগত বিশ্বাস আর তার বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার সমান বিষয় নয়। একজন বিজ্ঞানীও অবৈজ্ঞানিক বিশ্বাস পোষণ করতে পারেন। তাতে তার বিশ্বাস বিজ্ঞানের প্রমাণ হয়ে যায় না। তাকে মেথড মেনেই প্রমাণ করতে হয়ে। বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব ভুল প্রমাণিত হলে তার কষ্ট হতে পারে। সত্য মেনে নেয়া বিজ্ঞানীর জন্যও কঠিন হতে পারে।
প্রসঙ্গত ধর্মের বিশ্বাসকে কেউ যদি বিজ্ঞানীর কল্পনার সাথে তুলনা করেন - হোক তা আইনস্টাইনের বরাতে - তবে সন্দেহ থাকে একজন নিষ্ঠাবান ধার্মিক তাতে একমত হবেন কিনা। ধর্মকে ইমাজিনেশন হিসেবে দেখা বরং একটি বিজ্ঞানবাদী দৃষ্টিভঙ্গি।
-
আমার এসব লেখার কথা না সম্ভবত। গতবছর একটা পেপার লিখেছিলাম থিওরি কোর্সে। কার্ল পপার আর টমাস কুন - এই দুইজনের লেখা পড়ে। লেখার শিরোনাম - Science constructs truth. (এর আগে ঢাকায় চিন্তার ইতিহাস পাঠচক্রে অধ্যাপক লিয়াকত আলি কার্ল পপারের ওপর যে ক্লাস নিয়েছিলেন তাতে অংশ নিয়েছিলাম।) পপারের বইয়ের নাম - Conjectures and Refutations, প্রথম প্রকাশ ১৯৬৩।
-
প্রবন্ধ লিখতে গিয়ে বুঝতে পারি টমাস কুনকে লোকেরা অপব্যবহার করে। তার ডিসকোর্স বিজ্ঞান কিভাবে চর্চা হয় অথবা বিজ্ঞানের প্যারাডাইম কিভাবে গড়ে ওঠে এবং ভাঙ্গে তা বুঝার জন্য খুব কাজের। (তার বইয়ের নাম - The Structure of Scientific Revolutions, প্রথম প্রকাশ ১৯৬২।) বিজ্ঞানের প্যারাডাইম ভাঙা গড়া আর যে কোন অনুমানকে বিজ্ঞান ধরে নেয়া এক নয়। লজিকের প্রাথমিক যে সুত্র সিলজিজম সেই ছকেই একে ধরা যায়। যেমন - মানুষ মরণশীল, এর মানে মরণশীল সবপ্রাণীই মানুষ নয়। বিজ্ঞানে অনুমান বা এজাম্পশন আছে, তার ভাঙাগড়া আছে - তার মানে অনুমান আর ভাঙা গড়া থাকলেই তা বিজ্ঞান হয় না।
-
(বিজ্ঞাপণ - ইংরেজি ভাল পারেন, আর ফিলসফিতে আগ্রহী হলে আমার প্রবন্ধটা পড়ে ফিডব্যাক দিতে পারেন। আমাকে ইনবক্স করতে পারেন। পরবর্তীতে এই লেখা বাংলায় লেখার ইচ্ছা আছে।)
-
এই খিচুড়ি টাইপের পোস্ট আপনাকে বিরক্ত করে থাকলে দুঃখিত।

Friday, April 8, 2022

টিএসসিতে মেয়েদের নামাজের জায়গা

 সুপ্রিম কোর্টের এক অবসরপ্রাপ্ত বিচারকের মুখে গল্প শুনেছিলাম। ঢাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হলে এক লোক রাতারাতি নিজের জায়গায় মসজিদ স্থাপন করেন। যাতে রাস্তার কারনে জমি অধিগ্রহণ করা না হয়। মসজিদকে সম্পত্তি রক্ষার জন্য ব্যবহার করার এই কৌশল সফল হয়েছিল। সড়ক ঘেঁষে সেই মসজিদ এখনো আছে। (ঢাকার সেই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সেই মসজিদের কারনে মাঝখানে চাপানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ মোড়সহ এখনো বাঙালির মহিমা ঘোষণা করছে।) বাঙালি মুসলমান ধর্মকে ব্যবহার করার এমন কূটকৌশল সহজে ভুলবে না।

টিএসসির অডিটোরিয়ামের পাশে চট বিছিয়ে একসময় নামাজ পড়া শুরু করেন টিএসসিতে আসা শিক্ষার্থীরা। কারা এই নামাজের জায়গার প্রথম আবিষ্কারক তা জানিনা। ২০০৮ - ২০১৩ সালের অভিজ্ঞতা আমার। দুয়েকবার ইফতার করতে গিয়ে সেখানে নামাজ পড়েছি। সেসময় টিএসসির টয়লেট ব্যবহার অযোগ্য ছিল। আর টয়লেটের সাথে যে বেসিন সেগুলো অজুর জন্য ডিজাইন করা নয়। বাগানে একটা ট্যাপ বসানো ছিল সেখানে অজু করতে হতো। (মেয়েদের জন্য অজুর জায়গা টিএসসিতে সম্ভবত নেই। ছেলেরা যেভাবে খোলা ট্যাপে বাইরে অজু করেন, মেয়েদের জন্য সেটি সহায়ক ব্যবস্থা নয়।)
টিএসসিতে নারী শিক্ষার্থীরাও নামাজের জায়গা চেয়েছেন। ডেইলি স্টারের খবর অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের যুক্তি হচ্ছে - ১. কেন্দ্রীয় মসজিদে নারী শিক্ষার্থীদের নামাজের জায়গা প্রয়োজনের চেয়ে কম, ২. বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের কমনরুমগুলো - মেয়েরা সাধারণত সেখানে নামাজ পড়েন - বিকেল ৫টায় বন্ধ হয়ে যায়, ৩. টিএসসিতে ছেলেদের জন্য নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা থাকলেও মেয়েদের জন্য কোনো ব্যবস্থা নেই।
এসবের সমাধান হিসেবে টিএসসিতে মেয়েদের নামাজের জায়গা চাইছেন শিক্ষার্থীরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রচণ্ড ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। স্পেস ম্যানেজমেন্ট করতে হলে এখানে পলিসি ঠিক করা জটিল। এর সাথে যদি ধর্মীয় আচার-আচরণকে কালচারাল পলিটিক্যাল উপায় হিসেবে ব্যবহার করা হয় তাহলে তা আরো জটিল হয়ে যাবে।
শিক্ষার্থীদের ইফতার (পার্টি) করার জন্য জায়গার অভাব। তারা টিএসসির মত খোলা জায়গায় ইফতার পার্টি আয়োজন করে। মসজিদের তুলনায় জায়গা হিসেবে তুলনামূলক সেক্যুলার স্পেস হওয়ায় সেখানে সবাই অংশ নেয়। ইফতারকে পার্টি বানানোর সাথে সাথে নামাজের জায়গার এই চাহিদা তৈরি হয়েছে। আরো কারন থাকতে পারে।
টিএসসিতে ছেলেদের নামাজের জায়গার বিশেষ কোন রুম নেই। তারা মূলত টিএসসি অডিটোরিয়ামের বারান্দায় নামাজ পড়ে। মাগরিবের সময় যেহেতু অল্প থাকে তাই ভরপেট ইফতার করে সময় থাকতে নামাজ আদায় করা কঠিন হয়। তখন তাড়াহুড়া করতে এই বারান্দার নামাজের জায়গা দরকার হয় ইফতার করতে আসে নামাজীদের। ইবাদতে ধীরস্থিরতা আর নিষ্ঠার সাথে এই চর্চা মিলে না।
ছেলেদের নামাজের জায়গা আনুষ্ঠানিকভাবে তৈরি করা হয়নি, নির্দিষ্ট কোন রুমও বরাদ্দ হয়নি, অস্থায়ীভাবে নামাজের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে টিএসসির অডিটোরিয়ামের বারান্দা। মেয়েদের এই স্মারকলিপি প্রদানের মাধ্যমে ফরমালি নামাজের জায়গা চাওয়া হয়েছে। বিষয়টি অস্থায়ীভাবে সমাধান করার মত নয়। (ফরমালিটির গুরুত্ব এখনো আছে। কাগজে কালিতে আইনি স্বীকৃতির অবস্থা তৈরি হয়।) উপাচার্য মৌখিকভাবে অনুমতি দিয়েছেন বলে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে বিষয়টা তেমন সাময়িক ব্যাপার নয়। এ বিষয় বরং আরো চিন্তাভাবনা করে সমাধান করা উচিত। শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি জানিয়েছেন তাদের দাবিকে যাচাই বাছাই করে সমাধান দিতে হবে। একইসাথে সমাধান বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক অবকাঠামোগত পরিকল্পনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত।
শিক্ষার্থীদের দেয়া স্মারকলিপি থেকে অনুমেয় (রমজানের সময় আর মাগরিবের নামাজের প্রসঙ্গ হিসাব করে এই অনুমান) - তাদের প্রধানত রমজানে মাগরিবের নামাজের জায়গা দরকার। নামাজের জন্য খুব ভাল ব্যবস্থা হিসেবে কেন্দ্রীয় মসজিদ থাকলেও কেন্দ্রীয় মসজিদে নারীদের নামাজের জায়গা পর্যাপ্ত নয় - এটা তাদের দাবি। তাদের এই দাবি সমাধান করার জন্য টিএসসিতে নামাজের জায়গা বরাদ্দ করা আসলে ব্যবস্থাপনার জায়গা থেকে ভাল সমাধান নয়। বরং কেন্দ্রীয় মসজিদকে বহুতল করা যেতে পারে। সেখানে মেয়েদের নামাজের জায়গা বাড়ানো যেতে পারে। একই সাথে টিএসসিতে ছেলেদের নামাজের জায়গা বলে যা পরিচিত তারা তাকে আনুষ্ঠানিক না করে বরং মসজিদে নামাজ পড়ার চর্চা বাড়াতে পারেন।
কেউ রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে যদি এসব দাবি করে থাকেন কিংবা ধর্মীয় বিষয় নিয়ে সেনসেশন তৈরি করতে চান তবে তা আসলে ধর্মের জন্য উপকারী হবে না। এটি বরং আনস্মার্ট কৌশল হবে। কারন টিএসসির অডিটোরিয়ামে কনসার্ট চলবে আর আপনি তার পাশেই খুব একাগ্রতার সাথে ইবাদত করবেন তা আসলে আপনার ইবাদতের জন্য ভাল নয়।
যারা তথাকথিত উন্নত দেশের উদাহরণ জানেন তারা এটুকু জানেন সেসব দেশে স্টুডেন্ট সেন্টারে প্রেয়ার রুমে লোকেরা নাচগান করতে আসবে না, আবার অডিটোরিয়ামের বারান্দাকে কেউ নামাজের জায়গা হিসেবে দখল করবে না। আপনি অতিবেশি পলিটিক্যাল হলে সেসব নাও বুঝতে পারেন; বিশেষত, যদি স্বাধীনতাকে (লিবার্টি) শুধু নিজের মতের সাফাইয়ের জন্য যদি ব্যবহার করেন।
বাঙালের আর্টকালচার এমনিতেই দুরবস্থার মধ্যে রয়েছে। তাতে টিএসসির মত জায়গায় ধুঁকতে ধুঁকতে চলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্ট-কালচার চর্চা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর্ট-কালচারে মরে গেল তাকে রাজনৈতিকভাবে মৃতপ্রায় অবস্থা থেকে উদ্ধার আরো অসম্ভব হবে। নামাজের জায়গা থেকে কোন সৃজনশীলতা তৈরি হবে এমনটা কেউ ভুলেও ভাবে না। টিএসসি-কিছুই তৈরি করেনি এমনটা যারা ভাবেন, তারা নিজেরা শুরু করতে পারেন।
আপনার নামাজ মসজিদ থেকে টিএসসি অডিটোরিয়ামের বারান্দায় কিভাবে গেল সে বিষয়ে ভাবনা চিন্তা করলে আপনি হয়তো ভাল সমাধান পাবেন। সেসব না ভেবে সমগ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে মসজিদ ঘোষণা দিলেও মোসলমানের কোন উন্নতি তাতে হবে না।

এপ্রিল ৮, ২০২২

Friday, March 4, 2022

কানটুপি

 আমারে দেখে তুমি কানটুপি পইরো না;
তোমার যদি কান লাল হয়, এলার্জি করে জ্বালাতন,
উলের সুতা যদি খুসখুস করে তোমার মাথার পিছে -
আমার কোন দোষ হইবো না, মডেলিংয়ের জন্য।
তুমি যদি বিশেষ ছাড়ে ভ্যাল্কি বা ধাক্কা থেইকা কিনো কোন টুপি
তোমার টাকায় তুমি কিনবা ঠকবা / জিতবা
আমি তোমারে ফুসলাবো না চুপি চুপি।
আমারে দেইখা যদি নামো তুমি গাঙের পানিতে,
সাঁতার না জানার দোষ আমি পারুম না নিতে।
যদিও তুমি আমারে ভালা পাও খুব, হয়তো বাসোও একটু আধটু ভাল, আমারও হয়তো তোমার জন্য বুকের মধ্যে একটু ধুকপুক;
তবু তুমি হয়োনা আমার মতন, আমার মতন পইরো না লাল রঙের উলের কানটুপি 
(.... .. .. .. ..)

Thursday, February 3, 2022

ছল

হামাগুড়ি পার হয়ে একদিন 
হাঁটতে হাঁটতে উড়ে গেল 
নিরুদ্বেগ এক শিশু; 
তারপর সকলে বড় হলো , 
বড় বেশি আসক্ত হলো -
সোনারঙা ছলে ...

Monday, November 15, 2021

পীড়িত পিরিত

১.
ঝিম ধরা শীতে ক্লান্ত হয়ে যাওয়া মগজ আমার
বিভিন্ন ভয় কিংবা দুঃস্বপ্ন আঁকতে আঁকতে বিহ্বল হয়
ঘুম কিংবা স্বপ্ন দেখার জন্য আমার চোখেরা বন্ধ হয়ে থাকে
বন্ধ হয়ে থাকে মগজের কিছু কিছু ঘর
বাইরে কিংবা জানালায় সেসব মুহুর্তের আগে কিংবা পরে
দুনিয়া গুমট করে দেয়া এইসব মেঘলা দিনে
সূর্য হারিয়ে যায় প্রায়ই
মাঝে মাঝে কয়েকদিন থাকে পলাতক
যেন অনিশ্চিত আর সে আসবে কি না কো-ন-দি-ন

এই অবসাদভরা ঘুমের ভেতর স্বপ্ন হয়ে
তুমি ফিরে এলে

যে আমি অনেক কিছুই বলি না তোমাকে, চুপ করে থাকি শুধু ভিতরে ভিতরে ভাঙতে থাকি
সে আমি থামাতে পারি না আমাকে
স্বপ্নে আমি কথা কয়ে উঠি
– বহু জড়তা এবং ভোতা হয়ে যাওয়া পেন্সিলের স্বরে – বলি

ভালবাসি ..
সত্যিই,
এখনো অনেক ..
 
ভালবাসি ...

২.
হয়তো ভালবাসা কঠিন নয়
কত কত মানুষকেই পথে পথে ভালবাসলাম
কত কত পোকা
ঝড়ে ছিঁড়ে যাওয়া লতা
শিশিরে ঝরে পড়া ফুল
ঘাসে ঝুলে থাকা শিশিরবিন্দু
অদেখা কোন গায়কের কোন এক গানের একটি বিশেষ শব্দে কেঁপে ওঠা স্বর
সমুদ্র সাঁতরে বেড়ানো তিমি
আমাদের খেলনা সাইকেল
গোলাপ রঙের অলৌকিক খরগোশ
এবং
মানুষের হাতে খেলনা হয়ে যাওয়া মানুষকে

বিভিন্ন ক্ষণে মনে হয়েছে ভালবেসেছি ..

তবে যতটা কঠিন ভালবাসতে শুরু করা
তারচেয়ে কঠিন নিরন্তর ভালবেসে যাওয়া
আমাদের নাজুকতা, অস্থিরতা, আর মানুষ হবার সীমানায় –
যতটা যত্ন বুদ্ধি প্রজ্ঞা দরকার হয় ভালবেসে যেতে
সে পথ বহুগুন কঠিন সাধনার;

তবু সাধক হওয়ার সাধ আমার নিজের অক্ষমতাকে অস্বীকার করে,
দুঃসাহসী হই - 
ভালবাসি,
তোমাকে,

Wednesday, November 10, 2021

অনাগত

এক‌দিন থাকবেনা কেউ

প‌রি‌চিত কু‌টিল যারা
‌কিংবা অপ‌রি‌চিত শুভাকাংখী
এবং এইসব আমিরা

যারা সর্বদা নিরীহ নিরপেক্ষ নির্দোষ



/এপ্রিল ৪, ২০১৯


শেড অ্যাকুরিয়াম

মে ৮, ২০২২ শেড অ্যাকুরিয়াম গেলাম। সকালে উঠলাম দেরিতে। দায়ীন ভাইয়ের সাথে কথা বলেছিলাম গতকাল। তিনি ছিলেন শেড এর কাছাকাছি। তার আরেক বন্ধুর সাথে...