Wednesday, August 14, 2024

রিমান্ডকেই আমরা যেন বিচার এবং শাস্তি মনে না করি

রিমান্ড বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার সবচে অপব্যবহার হওয়া একটা প্রক্রিয়া। যদিও এর আইনগত অর্থ আর ব্যবহারিক অর্থ সম্পূর্ণ আলাদা। অটোক্রেটিক শাসন সবচে বেশি যেই প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করে মানুষের আইনগত, সাংবিধানিক, এবং মানবিক অধিকারকে অস্বীকার করেছে তার একটি হচ্ছে রিমান্ড।
এই ব্যবস্থা একই সাথে বাংলাদেশের পুলিশ ব্যবস্থাকেও অন্যায্য ও বেআইনি আচরণের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।
আমরা আসলেই পুলিশ এবং বিচার ব্যবস্থার সংস্কার চাই কিনা তা পরীক্ষার সময় তৈরি হয়েছে। এই পরীক্ষায় পাশ করলেই বোঝা যাবে আমরা রাষ্ট্র সংস্কারের সঠিক রাস্তায় এগুচ্ছি। সত্যিকার অর্থেই আমরা অটোক্রেসির বিচারিক এবং প্রশাসনিক যন্ত্রপাতি ও প্রক্রিয়ার বাতিল করতে চাই কিনা। এবং অভিযুক্ত এমনকি অপরাধীসহ সকলের প্রাপ্য মানবাধিকার নিশ্চিত করতে চাই কিনা।
জনাব সালমান এফ রহমান এবং জনাব আনিসুল হককে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ডিবি পুলিশের পেশ করা দশ দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। আদালতে তাদের কোন আইনজীবী ছিলেন না; এমনকি কোন পাবলিক প্রসিকিউটরও এপিয়ার করেন নি। যে মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে সে মামলার বাদী আদালতে উপস্থিত হয়ে হত্যা মামলার বিচার চেয়েছেন।
এই ঘটনাকে ঘিরে কয়েকটি বিষয় নোট করে রাখছি।
১. ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থাকে সংস্কার করতে হলে রিমান্ডে নিয়ে কাউকে নির্যাতন করা যাবেনা। বাংলাদেশ ইউনাইটেড নেশনস কনভেনশন অ্যাগেইনস্ট টর্চার (UNCAT) এর একটি পক্ষ। বাংলাদেশের ১৯৭২ সালের সংবিধানেও এ সংক্রান্ত মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা রয়েছে। এছাড়া এসবের বিরুদ্ধে নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩ কার্যকর রয়েছে বাংলাদেশে।
এসব রাষ্ট্রীয় দায়, সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার, এবং আইন থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের মাধ্যমে একটি অটোক্রেটিক শাসন তৈরি করা এবং টিকিয়ে রাখা হয়েছিল। বাংলাদেশে এমন নাগরিক খুঁজে পাওয়া কঠিন, যিনি মনে করেন রিমান্ডে নির্যাতন করা হয় না। রিমান্ড মানেই মানুষের কাছে এক ভয়ংকর পুলিশি নিপীড়নের নাম। আমাদের পুলিশ ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা এবং ভালবাসা নষ্ট করার একটি প্রক্রিয়া হচ্ছে রিমান্ড। যদিও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়, জিজ্ঞাসাবাদের সময় কোন নিপীড়ন হয়নি এই বিশ্বাস তৈরি করতে হবে।
তা তৈরির জন্য প্রথমত বিদ্যমান আইন (আদালতের নির্দেশনাসহ) মেনে চলতে হবে। আদালতের একটি দায়িত্ব রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করার পর আইনের ব্যত্যয় ঘটেছে মর্মে বিশ্বাস করার কোন কারন থাকে, তবে আদালত দণ্ডবিধির ২২০ ধারার অধীনে তদন্তকারী পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। (বাংলাদেশ বনাম ব্লাস্ট, ২০২৬)।
এমন আরো বিভিন্ন আইনি প্রতিকারের ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়াকে আইনানুযায়ী পরিচালনারা জন্য এসব প্রতিকার বাস্তবায়ন করতে হবে। নয়তো বিচার ব্যবস্থার উপর জনগণের আস্থা বাড়ানো কঠিন হবে।
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, রিমান্ডকেই আমরা যেন বিচার এবং শাস্তি মনে না করি। রিমান্ডসহ কোন অবস্থাতেই নির্যাতন যেমন আইনসম্মত নয়, তেমনি রিমান্ডও বিচার নয়। বরং জিজ্ঞাসাবাদ হচ্ছে বিচার প্রক্রিয়ার একটি প্রাথমিক ধাপ।
২. এক্ষেত্রে যে চর্চা রিমান্ডের ক্ষেত্রে শুরু করা যায় তা হচ্ছে - সচ্ছতার জন্য রিমান্ডে/ পুলিশের হেফাজতে থাকার সময়েও আইনজীবী এবং পরিবারের সাথে যোগাযোগ ও সাক্ষাতের সুযোগ দিতে হবে। আরো ভাল হবে যদি আইনজীবী দেখতে পান - হতে পারে মিউটেড ভিডিওর মাধ্যমে - এমন পরিবেশেই কেবল জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবে। এতে পুলিশের কাছে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে প্রাপ্ত তথ্যের সাক্ষ্যগত মূল্য বৃদ্ধি পাবে। যদিও বর্তমানে সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী পুলিশের কাছে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।
৩. এছাড়া গ্রেফতার হওয়া সকলের ক্ষেত্রেই আদালতের শুনানির সময় আইনজীবী রাখতে হবে। যদি কোন আসামীর আইনজীবী না থাকে তবে তার জন্য সরকারি আইনসহায়তার জন্য তালিকাভূক্ত কোন আইনজীবী নিয়োগ দেয়ার ব্যবস্থা করা উচিত। আদালত অন্তত সেই সুযোগটুকু যেন গ্রেফতার হওয়া সকলকেই দেন।
৪. আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। জনাব সালমান এফ রহমান এবং জনাব আনিসুল হককে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা গিয়েছে। তাদেরকে বেঁধে রাখার প্রয়োজনীয়তা সেসময় ছিল কিনা তার ব্যাখ্যা যারা গ্রেফতার করেছেন তারা দিতে পারবেন। কিন্তু আমরা চাইনা কোন আসামীকেই এভাবে বেধে ছবি তোলা হোক। ছবি তুলে সেই ছবি সংবাদ মাধ্যমে শেয়ার করা একটি বেআইনি কাজ। এসব চটকদার কাজ থেকে বিচার প্রক্রিয়াকে দূরে রাখা আইন-শৃংখ্যলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সাংবাদিক সকলের জন্য জরুরি।
৫. জুলাই ম্যাসাকার এবং পরবর্তী গণ অভ্যুত্থানের ফলে সারা দেশে অনেক মামলা হয়েছে, হচ্ছে, আরো হবে। শুরুর দিকে যেসব মামলা সরকারি উদ্যোগে হয়েছিল সেগুলোতে নিহতদের তথ্য নেই - এমন খবর পত্রিকায় দেখেছি আমরা; বেশিরভাগ এজাহার গতবাধা রাজনৈতিক বর্ণনায় তৈরি ছিল। দুর্বল কিংবা ভুল মামলায় আসামী করার মাধ্যমে বিচারকে নষ্ট করা যেন না হয়। ভুক্তভোগী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, এবং সংবাদ মাধ্যম সহ অন্যরা সত্য তথ্য দেয়ার মাধ্যমে অভিযোগ দিতে পারেন। যাতে করে অপরাধ অনুযায়ী প্রাপ্য শাস্তি দেয়া যায়। এবং তা আমাদের আদালতের মাধ্যমেই। যদি সত্য অপরাধের জন্য তথ্য প্রমাণের ভিত্তি বিচার এবং শাস্তি নিশ্চিত করা যায় তাহলে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলো - যেমন জুডিশিয়ারি - শক্তিশালীতো হবেই; রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে যাবে।
/১৪ অগাস্ট ২০২৪

Creative Commons License
This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial 4.0 International License.

Thursday, January 4, 2024

নির্বাচন কেন আায়োজন করা হচ্ছে?

এই প্রশ্নের আনুষ্ঠানিক উত্তর হিসেবে আওয়ামী লীগ সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কথা বলে। সংবিধানকে লিগালিটির একটা টেকনিক্যাল টুল হিসেবে ব্যবহার করা ছাড়া এই যুক্তির আর কোন শক্তিশালী দিক নেই। এই প্রবণতা সংবিধানের জন্য বিপদজনক, এবং বাংলাদেশের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক। বিপদজনক কারন লেজিটিমেসিহীন এক ধরনের টুল হিসেবে সংবিধানকে ব্যবহার করা সংবিধানের ঘোষিত আদর্শের বিরোধী। এই এবিউসিব সাংবিধানিকতা বাংলাদেশে স্বাভাবিক কারন বাংলাদেশে বর্তমানে একটি সাংবিধানিক সংকট চলছে।

আওয়ামী লীগের বক্তব্য - সংবিধানের বাধ্যবাধকতার কারণে আওয়ামী লীগকে নির্বাচন করতে হবে।
সংবিধান আওয়ামী লীগকে বাধ্য করতে পারে এমন শক্তি সংবিধানের আছে তা বিশ্বাস করার উপায় কি? এর পক্ষে কোন উদাহরণ পাওয়া কঠিন; বরং আওয়ামী লীগকে সংবিধান, আইন-কানুন, কিংবা কোন বাছ-বিচার দিয়ে দাবায়ে রাখা যায় নাই। আওয়ামী লীগ যে সংবিধান, সাংবিধানিকতা, এমনকি রাষ্ট্রের চেয়ে বহুগুন বড় হয়ে গিয়েছে তা তাদের বিভিন্ন বয়ানের মধ্যে প্রতিদিন জানা যায়। রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে বাঁচানোর উপায় এই নির্বাচন নয়, বরং এর ফলে আওয়ামী লীগ মোরালি এম্পটি হয়ে যাচ্ছে।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২০১৮-র গান গাচ্ছে - “জিতবে এবার নৌকা”। তখন নৌকা জিতেছে ঠিক; হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। ২০১৮র নির্বাচনে যেমন আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্ধী ছিল আওয়ামী লীগের সততা, এবারেও তাই। আওয়ামী লীগ মূলত ২০১৮র নির্বাচনেই মোরালি এম্পটি হয়ে গিয়েছিল। তবে ২০১৮-র নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিজেকে বোঝানোর মত সাংবিধানিকতাবাদ আসার আগের দুনিয়ার যুক্তি হিসেবে পাবলিক ওয়েলফেয়ার বা উন্নয়ন ছিল। আওয়ামী লীগ তার মেগা প্রজেক্টগুলো মোটামুটি শেষ করতে পেরেছে। এসব আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। কিন্তু এর বিপরীতে যে ব্যয় বাংলাদেশ রাষ্ট্র এবং তার জনগণকে বহন করতে হচ্ছে তাতে এই পাবলিক ওয়েলফেয়ারের রাজতান্ত্রিক যুক্তি কনভিন্সিং থাকে না।

এছাড়া নির্বাচন হলেই আওয়ামী লীগের লেজিটিমেসি ঠিক হয়ে যাবে এমনটা ভাববার কোন কারন নেই। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন সেটাই যেখানে আওয়ামী লীগ ছাড়াও অন্য কোন দলের জেতার সম্ভাবনা থাকে। আসন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে যেহেতু আওয়ামী লীগ ছাড়া আর সবগুলো দল মিলেও সরকার গঠনের কোন সম্ভাবনা নেই - তাই এই নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন নয়।

নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় অর্থের যে ব্যয় হচ্ছে - গণতান্ত্রিক নির্বাচন না হওয়ার কারনে সেসব ব্যয় অন্যায্য এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়। নির্বাচন উপলক্ষ্যে clientelism এর চুড়ান্ত চর্চা হিসেবে এ অপচয় / তছরূপ বহুগুণে বাড়ছে। দীর্ঘ মেয়াদে তা রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে মেরামতের অযোগ্য মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্থ করবে।

Creative Commons License
This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial 4.0 International License.

Tuesday, December 12, 2023

হয়তো আপনাদের দুঃখ হচ্ছে

হয়তো আপনাদের দুঃখ হচ্ছে

আগমন-প্রস্থানের চিরন্তন মানবীয় বিক্রিয়া আক্রান্ত করছে আপনাদেরকেও

বেঁচে থাকা শেষ হলে  পাখিরা যায় কোথায়?

কোথায় অদৃশ্য হয় ফড়িং ও প্রজাপতি?

কোন কর্পোরেট অফিসে আত্মাহুতি দেয় ভাঁটফুল কিংবা নয়নতারা?


এসব প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে

বর্ষার বিলে জালে আটকা পড়া ঢোড়া সাপের মতন মনের ভেতর মোচড় দিচ্ছে গহীন এক দুঃখ;

একটি করুন বেদনা শূন্যতার মত হাহাকার তুলে ফুসফুস ফাটিয়ে বের হবার জ্ন্য প্রস্তুত হচ্ছে বুকের ভেতর;

পায়ে পায়ে জড়তার মত লেপ্টে আছে স্মৃতি;

চোখের ভেতর উবুড় হয়ে আছে অব্যক্ত দুঃখের দুটি নোনাজলের নদী;

সমস্ত ইন্দ্রিয়কে গ্রাস করে এখনই যেন পৃথিবীতে প্রথমবারের মত নাজিল হয়েছে বিমূঢ়তা - 


স্বর্গ কিংবা পৃথিবী - সবকিছু ছাড়তেই আদমের সন্তানদের দুঃখ হয়;

হয়তো আপনাদেরও দুঃখ হচ্ছে …

_

রাজাবাজার/

১২/১২/২০২৩


Creative Commons License
This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial 4.0 International License.

Tuesday, November 14, 2023

মহামান্য ট্রাক

মহামান্য ট্রাক। তোমার ব্রেক নাই কেন? সমগ্র বাংলাদেশে ফুলস্পিড ওজন তোমার, পিষতে থাকে গৃহপালিত হাড়গোড়। 

মহামান্য ট্রাক, তুমি কি আজরাইলের ভ্রাম্যমাণ অফিস? সতেজ টাটকা জীবন সব মিশমার কইরা তুমি যাইতেছ উরাধুরা … 

মাননীয় ইসপাতের ট্রাক, আর কত পিষবা আমাদেরে …
_
৮/১১/২০২৩
পূর্ব রাজাবাজার


Creative Commons License
This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial 4.0 International License.

Monday, November 13, 2023

জারুল ফুল


মেঘছায়া নীরবতায় সবুজ রোদের দিনে
হৃদয় টুকরো করে শূন্যতা কিনে
আমাদের বারান্দা থেকে
প্রেম উড়ে গেলো।

আমি ঝুলে রইলাম নব্বইয়ের ঢাকায়।
ঢোলা শার্টের পকেটে ভাঁজ করে অতীত জমায়ে রেখে -
প্রতিদিন উদাসীন রিকশায় শাড়ি দেখে দেখে,
আমার কাটছে কাল কলকল স্রোতের ধ্বনি মেখে।

মাঝে মাঝে বেলা করে নিলাজ ঘুমের মাঝে,
জারুলের সাহসী রঙের ধারা ঘুম ভেঙে দিলে,
হাওয়ায় উড়ায়ে দিয়ে অবসাদের সকল আহ্বান,

নতুন শতাব্দী থেকে ভেসে আসে অন্য হলুদ পাখির ঘ্রাণ।
_

১২/১১/২০২৩
পূর্ব রাজাবাজার

Creative Commons License
This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial 4.0 International License.

Wednesday, November 8, 2023

ইতিহাস, আমার কথাও একটু শোনো

ইতিহাস,

আমারে একটা পাতা দিয়ো -

কোণা ছেঁড়া, ভাঁজ পড়া, খয়েরি পাতা।

সেখানে আমার অতি সাধারণ পিতামহের নাম লিখব,

লিখব কৃষক প্রপিতামহ এবং তাদের পূর্বপুরুষদের নাম।

তারা দাস ছিল না,

তারা ছিল স্বাধীন,

মেঘনার জোয়ারধোয়া গ্রামে 

ফসলের উদ্ধত সাহসের মত সূর্যমুখী!

সেই সকল পূর্বপুরুষের নাম যদি আমি কোথাও না লিখি

তাহলে - কষ্ট পাবে পৃথিবী এবং আরো সব জীবিত আবাসভূমির আত্মা;

ইতিহাস, তুমি আমার কথাও একটু শোনো -

আমারে একটা পৃষ্ঠা দিও,

রাইখো না সব কাগজ কোন বখত-নসরের কলমের অমোচনীয় কালির নিচে …


_

অক্টোবর ২০২৩ 


Creative Commons License
This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial 4.0 International License.

Saturday, November 4, 2023

Failure of Constitutionalism in Bangladesh

Constitutionalism এর বিভিন্ন নীতি গ্রহণ করা সত্ত্বেও বাংলাদেশে রাজনৈতিক এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহ দুর্বল রয়ে গিয়েছে। মূলত বাংলাদেশে Constitutionalism এখন পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। বরং রাষ্ট্র ব্যবস্থা তৈরিতে Constitutionalism চর্চার বদলে বাংলাদেশে খেয়ালি বিধির শাসনই চলেছে বারবার।
রাষ্ট্রের সাংবিধানিক সেই দুর্বলতাকে শুধুমাত্র সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ করে ফেলার মানে রাষ্ট্রীয় জীবনে অল্প চাওয়ার বিভ্রম। এই বিভ্রমে রাখতে পারলে কোন কোন রাজনৈতিক দলের সুবিধা হলেও বাংলাদেশের জনগণের লাভ হবে না।
বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংকট সুষ্ঠু নির্বাচন না করতে পারার চেয়ে বিস্তৃত এবং জটিল। সুষ্ঠু নির্বাচনের উপায় সহ বাংলাদেশের রাষ্ট্র কাঠামো ঠিকঠাক করতে সাংবিধানিক সংস্কারের বিকল্প নেই। কাজেই সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রশ্ন সাংবিধানিক সংস্কারের অংশ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটের পূর্ণাঙ্গ সমাধান হিসেবে নয়।
আজকে বাংলাদেশের সংবিধান দিবস। ১৯৭২ সালের ৪ নবেম্বর গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়। ৭২ এর সংবিধানের বৈধতার প্রশ্ন, এবং সেই সংবিধানের দুর্বলতার বাইরে - ৭২ এর পর থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সাংবিধানিক যাত্রা প্রধানত নেতিবাচক। মানুষের অধিকার আর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের বিরুদ্ধে এই সংবিধানকে বাঁধা হিসেবে হাজির করা হয়েছে বহুবার।এবং সেই প্রয়োজনে সংবিধানকে কাঁটাছেড়াও করা হয়েছে।
.
বাংলাদেশের সংবিধান বিষয়ে এ বছর (২০২৩) খুব জরুরি চারটি বই প্রকাশিত হয়েছে। দুটি বই রাজনৈতিক করণীয় কি হবে তেমন অবস্থান থেকে লিখিত এবং বাংলা ভাষায়। আর ইংরেজিতে লিখিত দুটি একাডেমিক গবেষণার বই প্রকাশিত হয়েছে দেশের বাইরে, যা সংবিধানের গতানুগতিক ন্যারেটিব থেকে কিছুটা বেরিয়ে সংবিধানের বিভিন্ন বিষয়ের একধরনের আন্তঃশাস্ত্রীয় অনুসন্ধান। এছাড়া গত বছরের শেষে (২০২২) প্রকাশিত হয়েছে আরেকটি জরুরি পর্যালোচনা, ৭২ এর গণপরিষদে সংবিধান বিতর্ক বিষয়ে। এখানে বইগুলোর তালিকা করা হয়েছে আপনাদের সাথে পরিচিত করানোর জন্য।
১. ফরহাদ মজহার 'গণ অভ্যুত্থান ও গঠন - বাংলাদেশের গণরাজনৈতিক ধারার বিকাশ প্রসঙ্গে' বইয়ে রাজনৈতিক তত্ত্বের জায়গা থেকে রাষ্ট্র গঠন এবং রাষ্ট্র গঠনের ক্ষমতা যে কেবলমাত্র জনগণের (পপুলার সভরেইনটি) সেই ন্যারেটিব হাজির করেছেন। শুধু সংবিধানেই রাষ্ট্রের গঠন সীমাবদ্ধ নয়, এমনকি প্রচলিত রাজনৈতিক বর্গগুলোও যে চিন্তায় অতিক্রম করা প্রয়োজন, সেই প্রয়োজনীয় কাজের কথাই তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন। এই বইয়ের প্রকাশক রাষ্ট্রচিন্তা।
২. রাষ্ট্রচিন্তার প্রকাশিত আরেকটি বই হচ্ছে হাসনাত কাইয়ূমের 'রাষ্ট্র সংস্কারের রাজনীতি: তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক দিক'। এই বইতে সংক্ষিপ্তভাবে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সংস্কারের জন্য সংবিধান সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা এবং কিভাবে তা করা যেতে পারে তথা একটি রোডম্যাপ হাজির করা হয়েছে।
৩. বাংলা ভাষায় রচিত গত বছরের শেষ দিকে প্রথমা থেকে প্রকাশিত আসিফ নজরুলের 'সংবিধান বিতর্ক ১৯৭২ - গণপরিষদের রাষ্ট্র ভাবনা' উপরের দুটি বইয়ের সাথে সংবিধান সংস্কারের আলোচনা বুঝার জন্য সম্পূরক বই। এখানে ১৯৭২ সালের সংবিধান রচনাকারী গণরিষদ 'বিতর্ক' সারসংক্ষেপ এবং পর্যালোচনা করা হয়েছে।
৪. M Rafiqul Islam এবং Muhammad Ekramul Haque এর সম্পাদনায় Springer থেকে প্রকাশিত The Constitutional Law of Bangladesh - Progression and Transformation at its 50th Anniversary সংবিধানের একটা বিস্তৃত কমেন্টারির মত। বইটি কমেন্টারির চাইতে বেশি কিছু হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের সংবিধানের বিদ্যমান সংকটগুলোকে তুলে ধরার মাধ্যমে। গণতন্ত্রের ছদ্মাবরণে স্বৈরতন্ত্রের মধ্যে যাতে ঘুরপাক খেতে না হয় সেই জন্য বাংলাদেশের সংবিধান মেরামতের কথা উচ্চারিত হয়েছে এই বইয়ে। এর পাশাপাশি নতুন নতুন কিছু চিন্তাও এই বইয়ে রয়েছে।
৫. Ridwanul Hoque এবং Rokeya Chowdhury সম্পাদিত A History of the Constitution of Bangladesh: The Founding, Development, and Way Ahead - বইয়ে বাংলাদেশের সংবিধান বিষয়ে কিছু শক্তিশালী পর্যবেক্ষণ হাজির করা হয়েছে। বাংলাদেশের সাংবিধানিক যাত্রা যেসব প্রমিজ নিয়ে শুরু হয়েছিল সেসব যে অধরাই রয়ে গেছে গত পঞ্চাশ বছরে সে কথা সংবিধানের একাধিক বিষয়ের আলোচনায় এসেছে। Abusive constitutionalism এর অনেক নমুনা যে বাংলাদেশে দেখা গিয়েছে সেসব পর্যবেক্ষণও পাওয়া যাবে এখানে। বইটি প্রকাশিত হয়েছে Routledge থেকে।
.
বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবিতার দুর্বলতার কথা আমরা বিভিন্ন মুখরোচক উপায়ে শুনি। বুদ্ধিজীবিদের কথা শুনলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না, তারা এখন যা বলছেন তা শুনলে বাংলাদেশ অগ্রসর হবে না - ছফার এমন তীর্যক মন্তব্যের সপক্ষে বহু প্রমাণ হাজির করা যাবে। তবে উপরের বইগুলো থেকে একটা বিপরীত উদাহরণই পাওয়া যাবে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বুদ্ধিজীবিতা এবং একাডেমিক গবেষণা একটা বাস্তবতাকে অস্বীকার করতে পারছে না, এবং তা বাংলাদেশের জন্য বহু জরুরি চিন্তা ও আলাপের সূচনা হিসেবে দরকারি; সেই বাস্তবতাটি হচ্ছে - বাংলাদেশের রাষ্ট্র গঠন সংক্রান্ত সংকট এবং সাংবিধানিক সংকট।

[৪ নবেম্বর ২০২৩ তারিখে ফেসবুকে পোস্ট করা হয়েছিল।]

Creative Commons License
This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial 4.0 International License.

শেড অ্যাকুরিয়াম

মে ৮, ২০২২ শেড অ্যাকুরিয়াম গেলাম। সকালে উঠলাম দেরিতে। দায়ীন ভাইয়ের সাথে কথা বলেছিলাম গতকাল। তিনি ছিলেন শেড এর কাছাকাছি। তার আরেক বন্ধুর সাথে...